বোনের সঙ্গে প্রেমিকের অবৈধ সম্পর্ক, মানতে পারেনি ভাই

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৭:৫৫ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৭

 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের দোকান কর্মচারী শাকিল হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আসামি রাকিব হোসেন হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

গত সোমবার (১৬ অক্টোবর) টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় রাকিব হোসেন হত্যার স্বীকারোক্তি দেন।

আদালতের বিচারক রোকন কুমারে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে মির্জাপুর থানা পুলিশের ওসি একেএম মিজানুল হক গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন।

জবানবন্দিতে রাকিব বলেন, গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়া গ্রামের নয়া ড্রাইভারের মেয়ে সুবর্ণার সঙ্গে শাকিলের প্রেমের চলছিল। ওই প্রেম তাদের এক সময় দৈহিক সম্পর্কে রূপ নেয়। শাকিল তার প্রেমিকার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কের ভিডিও ফোনে ধারণ করে। পরে রাকিব সুবর্ণাকে সেই ভিডিও’র কথা বলে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

এই খবর সুবর্ণার ভাই শুভ জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়। শুভ এলাকার মাদক সেবনকারী শাকিলের বন্ধু রাকিবের দারস্থ হয় এবং গত ১১ অক্টোবর রাতে শুভ রাকিবকে দিয়ে শাকিলের মুঠোফোনে কল দিয়ে বাড়ির পাশে রেল লাইনে ডেকে নেয়।

শুভ, রাকিব ও শাকিল রেল লাইন ধরে কথা বলতে বলতে হাঁটতে থাকে। দৈহিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করা ওই মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে তারা দুইজনে আচমকা শাকিলকে ধাক্কা দিলে রেল লাইনের পাশে খেতের মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় পানিতে ফেলে চেপে ধরা হয় শাকিলকে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শাকিল নিস্তেজ হয়ে পড়লে কচুরিপানা দিয়ে তার মরদেহ ঢেকে বাড়ি চলে যায় তারা।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মির্জাপুর থানা পুলিশ শাকিলের মরদেহ বাইমাইল এলাকার ওই খেত থেকে উদ্ধার করে। ওইদিনই পুলিশ রাসেল নামে এক যুবককে আটক করে।

তার দেয়া তথ্য মতে পুলিশ ঘটনার মূল নায়ক রাকিবকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। গত সোমবার পুলিশ রাকিবকে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকন কুমারের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুল হক বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেক আসামি শুভকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এস এম এরশাদ/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :