মহাসড়কের একি হাল, আটকে গেল প্রাইভেটকার

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ১১:১৮ এএম, ২২ অক্টোবর ২০১৭

নিম্নচাপের কারণে সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরেও গত তিনদিন হয়েছে অবিরাম বৃষ্টি। একটানা বৃষ্টি ও অপরিকল্পিতভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চারলেন উন্নতিকরণ কাজ শুরু হওয়ায় মহাসড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত একাধিকবার মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতু পূর্বপার পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার যানজট লাগে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাড়ির চাকা চলছে থেমে থেমে।

রোববার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে মির্জাপুরের কুর্ণী পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার এলাকায় যানজট লাগে। কিছু সময় যানবাহনের চাকা ঘুরলেও বেশি সময় আটকে থাকতে হচ্ছে বলে চালকরা জানিয়েছেন।

এছাড়া নিম্নচাপের কারণে দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। শনিবার রাত থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় রাস্তায় জমে থাকা পানি নেমে গেছে। চারলেন উন্নতিকরণ কাজের ঠিকাদার রোববার ভোর থেকেই সড়কের কাদা সরিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করছেন।

mirzapur

যানজটের কারণে রোববারের খবরের কাগজও মির্জাপুরে বিলম্বে আসে। বৃষ্টি ও যানজটে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নারী ও শিশু যাত্রীরা। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, মহাসড়কের মির্জাপুরের পুরাতন সড়কের দেওহাটা থেকে পোস্টকামুড়ি চড়পাড়া নামক স্থান পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে মহাসড়কে চারলেন তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পুলিশ ও যানবাহনের চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে মির্জাপুরের মা সিএনজি স্টেশন এলাকায় প্রাইভেটকার নিয়ে আটকা পড়েন চালক রফিকুল ইসলাম। পরে পুলিশ রেকারের সাহায্যে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে।

এর আগে সবজিভর্তি একটি ট্রাক ও কয়েকটি পিকআপ একই স্থানে আটকা পড়ে। একইভাবে পুলিশ বিকল হওয়া যানগুলো উদ্ধার করে বলে ট্রাফিক পুলিশের টিআই মো. সেলিম জানিয়েছেন।

mirzapur

রোববার বেলা ১টার দিকে একই স্থানে একটি প্রাইভেটকার মহাসড়কে সৃষ্টি হওয়া গর্তে আটকে পড়ে। পরে একটি ট্রাকের পেছনে বেঁধে টেনে তুলেন।

উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের চালক আলমগীর হোসেন, কান্তি পরিবহনের সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম ও যাত্রী হান্নান মিয়া জানান, রাত ৪টার দিকে মহাসড়কের যমুনা সেতু পার হওয়ার পর যানজটে আটকা পড়েন। রোববার দুপুর ১টার দিকে মির্জাপুর পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুল হক বলেন, টানা তিনদিনের বৃষ্টি এবং অপরিকল্পিতভাবে মহাসড়কে চারলেন উন্নতিকরণ কাজ শুরু হওয়ায় সড়কে দুই থেকে তিন ফুট কাদায় পরিণত হয়েছে। বড় যান ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও ছোট যান আটকে যাচ্ছে। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

বৃষ্টি থাকায় পুলিশ নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। তবে পুলিশ যানজট ছাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় রোববার বিকেল থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এস এম এরশাদ/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।