ফেরত যাচ্ছে এডিপির ২৩ লাখ টাকা
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির পলাতক থাকায় উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থবছর শেষে কোন কাজ না করায় সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (এডিপির) বরাদ্দকৃত ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরত চলে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা থাকায় জাকির দীর্ঘদিন যাবত পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও সম্প্রতি হাইকোর্ট সেই আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। এতে করে তিনি স্বপদে ফিরলেও মামলা থাকায় নিজ কার্যালয়ে বসতে পারছেন না। ফলে দাফতরিক সকল কাজে বিঘ্ন ঘটছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা থাকায় স্থানীয় সরকার বিভাগ চলতি বছরের ১৬ই মার্চ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। মামলাটি শুনানি শেষে গত ২৯ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগ তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা থাকায় তিনি তার নিজ কার্যালয়ে গ্রেফতার আতঙ্কে বসেন না। এতে করে উপজেলা প্রশাসনের দাফতরিক কাজে বিঘ্ন দেখা দেয়।
এদিকে, চলতি অর্থবছরে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় চার কিস্তিতে এডিপির ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। এরপর সাধারণ বরাদ্দের ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। আগের ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা প্যানেল চেয়ারম্যান রঞ্জনা খান দায়িত্ব পাওয়ার পর কিছুটা কাজ করা হলেও এখন সব রকমের কাজই বন্ধ রয়েছে। একই কারণে এডিপির সর্বশেষ বরাদ্দের টাকা ৩০ জুনের মধ্যে ব্যয় করতে বলা হলেও তা করা সম্ভব হয়নি। উল্টো বরাদ্দকৃত ২য় কিস্তির প্রায় ২৩ লাখ টাকা ফেরত চলে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির দীর্ঘ দিন কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় সব কাজে বিঘ্ন ঘটছে। তার কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র স্বাক্ষরের জন্য বাইরে পাঠানোর জন্য চেয়ারম্যান বারবার মোবাইল ও টেলিফোনে তাগিদ দিচ্ছেন। অফিসের নথিপত্র বাইরে পাঠানো বিধিসম্মত ও নিরাপদ নয় বলে তা করা হয়নি।
এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
লিমন বাসার/এসএস/আরআই