সন্তান জন্মের পর পরীক্ষার হলে অদম্য মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৪:০২ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সিজার অপারেশন) মা হয়ে ২৩ ঘণ্টা পর স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন নুসরাত জাহান।

পরীক্ষা শেষে তিনি আবার হাসপাতালে ফিরে যান। গতকাল সোমবার দুপুর ১টায় সরকারি মুজিব কলেজের ওই শিক্ষার্থী সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ কেন্দ্রে অর্থনীতি তৃতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন।ণ্টা প

দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার পরীক্ষায় নুসরাত জাহান অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বেঞ্চে বসে টানা সোয়া তিন ঘরীক্ষার হলে বসে উত্তরপত্রে লিখেছে বলে জানান ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক শরীফুল ইসলাম হান্নান। নুসরাত জাহান সোয়া ৪টায় পরীক্ষার হল ত্যাগ করে ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যানে আবার হাসপাতালের বিছানায় চলে যান।

এ বিষয়ে অদম্য নুসরাত জাহানের স্বামী সাইফুল ইসলাম সানি বলেন, আলট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদন অনুযায়ী আরও এক সপ্তাহ পরে প্রসব হওয়ায় কথা ছিল। কিন্তু গত রোববার সকাল ১১টার দিকে ব্যথা শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গেই সখীপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করি।

বেলা ২টার দিকে নুসরাত কন্যা সন্তানের মা হন। এর আগে বাংলা, সমাজ কর্ম ও ইসলাম শিক্ষা পরীক্ষায় অংশ নেয়। সোমবারের পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার অনুরোধ করলেও তা মানেনি সে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুসরাত পরীক্ষা শেষ করে বলেন, কষ্ট হয়েছে, তারপরেও পরীক্ষা দিয়েছি। প্রশ্ন কমন ছিল। ৯০ ভাগই উত্তর করেছি। পরীক্ষা ভালো হয়েছে।

তার অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক আবদুস সাত্তার বলেন, মেয়েটি সাহসী। আর আমাদের দেশের মেয়েরা যে কোনো বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে পারে তা প্রমাণ করল নুসরাত।

এ ব্যাপারে সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেনুবর রহমান বলেন, ওই ছাত্রীকে আলাদা কক্ষে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু মেয়েটি স্বাভাবিকভাবে অন্যদের সঙ্গে হলের বেঞ্চে বসেই পরীক্ষা দিয়েছে। তাকে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।

এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।