শাস্তির দাবিতেই কেটে গেল ৫ বছর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১২:৫৭ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

আজ ১৮ জানুয়ারি। মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম প্রতিবাদকারী ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যার ৫ বছর। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের টাঙ্গাইলের সর্বজনস্বীকৃত রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত দিন এটি। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম চলমান থাকলেও এরই মাঝে পেরিয়ে গেছে ৫ বছর। স্পর্শকাতর ফারুক আহমদ হত্যাকাণ্ডের বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতের পরিবারসহ জেলাবাসী।

নিহত ফারুক আহমদের স্ত্রী নাহার আহমদ বলেন, বিচার অবশ্যই হবে। এটা আমি বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এ হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে প্রধান আসামি কারাগারে রয়েছে। কিন্তু নানা অজুহাতে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। তাই সকল অজুহাত উপেক্ষা ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে দ্রুত মামলাটির নিষ্পত্তি দাবি করেন তিনি।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর নিহতের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।

২০১৪ সালের আগস্টে এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জড়িতদের নাম প্রকাশ করেন।

এরপর থেকে এমপি ও তার ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় টাঙ্গাইলের ডিবি পুলিশ। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ১৫ মে আমানুরসহ পলাতক ১০ আসামির অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির আদেশ দেন।

পুলিশ অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পাদনের লক্ষ্যে তাদের নামে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারির আদেশ দেন। ২০ মে এমপি ও তার ভাইদের অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়। ২০১৫ সালের ৪ জুলাই আগাম জামিন পেয়ে শহরের কলেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যান মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ‘আওয়ামী লীগের নির্যাতিত সমর্থক’ ব্যানারে মেয়রের বাসভবন ভাঙচুর করে ও এমপি রানাসহ চার ভাইয়ের গ্রেফতার দাবিতে মিছিল সমাবেশ হয়। এ মামলায় জামিনের আবেদন জানালে ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি মোহাম্মাদ উল্লাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই দুইজনকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

এরপর ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়া।

১৯ সেপ্টেম্বর তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এমপি রানা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে এ মামালার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :