বগুড়া প্রেসক্লাব নির্বাচনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচন পরিচালনা ও ফলাফল ঘোষণা না করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকেলে বগুড়া জেলা দায়রা জজ মো. শফিকুর রহমান এ আদেশ দেন। তবে প্রেসক্লাব নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আদালতের এ ধরনের কোনো আদেশ পায়নি দাবি করে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে তড়িঘড়ি করে বৃহস্পতিবার সকালেই নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় নির্বাচন শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আদালতের আদেশ নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা হাতে পান। তখনও ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

সভাপতি পদপ্রার্থী দুইজন যথাক্রমে জিয়া শাহীন ও আব্দুল মোত্তালিব মানিক, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী দুইজন যথাক্রমে মহসিন আলী রাজু ও মীর্জা সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী লিমন বাসারসহ নয়জন বুধবার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

নির্বাচনী তফসিল থেকে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সেই অনুয়াযী বুধবার নির্বাচন গ্রহণের সময় নির্ধারিত হয়।

আদেশের বরাত দিয়ে মামলার বাদী জিয়া শাহীন বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রচেষ্টা বা ফলাফল ঘোষণা না করে আদেশের নোটিশপ্রাপ্তির তিনদিনের মধ্যে প্রেসক্লাব নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক লালু, সদস্য শফিউল আযম কোমল ও মীর সাজ্জাদ আলী সন্তোষকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

অভিযোগে বাদী জিয়া শাহীন উল্লেখ করেন, সোমবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক লালুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটি প্যানেলকে নিয়ে সভা করেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে অপর প্যানেল ও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার বগুড়া জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার বরাবর নয় প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক লালু বলেন, আমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নোটিশ নিব না। ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর কোনো কথা থাকতে পারে না। আদালত থেকে আমার কাছে নোটিশ এলে তা গ্রহণ করব। পরে তিনি আদালতের অপর একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ গ্রহণ করেন। কিন্তু জেলা জজ আদালত থেকে নির্দেশ দেয়া নির্বাচন পরিচালনায় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রচেষ্টা বা ফলাফল ঘোষণা না করে আদেশের নোটিশ একজন আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো হলেও গ্রহণ করেননি।

সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মহসিন আলী রাজু বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি পক্ষের হয়ে কাজ করেছে এবং ভুয়া ভোটার দিয়ে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। আমরা এ কারণেই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং আদালত পর্যন্ত গিয়েছি। নতুন তফসিল দিয়ে ভুয়া ভোটার বাতিল করে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

সহ-সভাপতি প্রার্থী মীর্জা সেলিম রেজা বলেন, পরিচালনা কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকট। তাই তারা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

জিয়া শাহীনের ভাষ্য, বুধবার বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে তিনি আদালতের আদেশ নিয়ে পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে যান। জেলা জজ আদালতের নোটিশ পড়ে দেখার পরও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ভোট গণনাসহ নির্বাচন কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।

বাদীর আইনজীবী জেড এম ফারুক বলেন, আদালতের এই আদেশের পর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা উচিত হয়নি। এখন আদালতের আদেশ অমান্য করার মামলা হবে।

আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।