আশ্বাসেই দিন পার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১২:৫৭ পিএম, ১৭ মে ২০১৮

গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মার কোল ঘেঁষা ভাঙন কবলিত ইউনিয়ন দেবগ্রাম। গত বছর বর্ষা মৌসুমে পানির চাপে ইউনিয়নের তেনাপচা গ্রামের মোহন শেখের বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তাটির মাঝে ভেঙে যায়। মানুষের চলাচলের জন্য উপজেলা পষিদের অর্থায়ন ও ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় প্রায় ৭০ ফিট লম্বা ও ৩০ ফুট উঁচু বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়। যার উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও অটোরিকশা-নসিমন চলাচল করছে।

জানা গেছে, গ্রামের এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও ছোট-বড় যানবাহন যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। ভাঙা স্থানে বাঁশের মাচা দিয়ে কোনো রকম চলাচল উপযোগী করা হলেও আগের মতো ভারী কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী এ স্থানে একটি ব্রিজের জন্য অনেকবার প্রশাসনকে জানালেও এখন পর্যন্ত শুধু আশ্বাসেই দিন পার করছেন।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতর আলী জানান, রাস্তাটি পানির চাপে দুইবার করে ভেঙে গেছে। একবার মাটি দিয়ে ভরাট করা হলেও গতবছর আবার ভেঙে যায়। এখন সেখানে চলাচলের জন্য একটি বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়েছে। এখানে একটি ব্রিজের জন্য স্থানীয় এমপিসহ বিভিন্ন জনের কাছে গেছেন। সবাই আশ্বস্ত করছেন কিন্তু সেটা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

রাস্তায় চলাচলকারী একাধিক অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকরা জানান, বাঁশের মাচা দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলেই পিচ্ছিল হয়ে যায় মাচাটি। তারপরও প্রয়োজনে চলাচল করতে হয়। এটিই রাজবাড়ী জেলা শহর, গোয়ালন্দ উপজেলা ও দৌলতদিয়া যাওয়ার সহজ পথ। মাচার ওপর দিয়ে ভারি কোনো মালামাল বহন করা যায় না। তাই এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে অনেক ভালো হবে।

jagonews24

উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে তেনাপচার রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই জায়গায় প্রায় ৪৫ মিটারের একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। ভাঙন কবলিত স্থানে ব্রিজের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্ট্রাকচার প্রজেক্ট অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিজাইনের কাজ চলছে, কাজটি সম্পন্ন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু নাসার উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলের মাধ্যমে ঢাকায় একটি প্রজেক্ট পাঠিয়েছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ব্রিজের ট্রেন্ডার হবে এবং আগামী বছর ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন।

রুবেলুর রহমান/এফএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :