যৌবনে ফিরছে তিতাস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১০:৫২ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩০ লাখ মানুষের সঙ্গে যে নদী মিশে আছে তার নাম ‘তিতাস’। এ নদীই তিতাসপাড়ের মালোপাড়ার জেলেদের জীবন ও জীবিকা। তিতাস নদী নিয়ে কালজয়ী ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ লিখেছিলেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস। সে উপন্যাসে অদ্বৈত আরও বলেন, ‘যে তিতাসের কূল জোড়া জল, বুক ভরা ঢেউ, প্রাণভরা উচ্ছ্বাস ছিল এখন সে তিতাসের দিকে তাকালে এমন দৃশ্য খুঁজে পাওয়া দায়। এ সবকিছুই এখন যেন সোনালী অতীত।’

নাব্যতা হারিয়ে মেঘনা কন্যা খ্যাত তিতাস জরাজীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। দিন দিন প্রভাবশালীদের দখল আর দূষণের কারণে স্থবির হয়ে পড়ছে তিতাসের স্বাভাবিক স্রোতধারা। অবশেষে ঐতিহ্যবাহী এ নদীটি খনন করে নদীকে তার হারানো যৌবনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিতাস নদী খননের জন্য ১৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Titash3

ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নদীর খনন কাজ। বাংলাদেশ নৌবাহিনী এ খনন কাজের দায়িত্বে নিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৩ জুলাই) তিতাস নদীর ব্রাহ্মবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ৬ কিলোমিটার অংশের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য বি.এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম এ খনন কাজের উদ্বোধন করেন।

নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের নরহা গ্রামের তিতাসপাড়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নৌ বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Titash3

সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম বলেন, তিতাস নদী শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্য নয় এটি সারাদেশেই বিখ্যাত। এ নদীর খনন কাজ শেষ হলে নদী ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক স্রোতধারা এবং স্থানীয়দের সেচের সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান জানান, আগামী ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে তিতাস নদীর খনন কাজ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। তিতাস নদীর সঙ্গে পাগলা নদী ও এন্ডারসন খালও খনন করা হচ্ছে। এরমধ্যে তিতাস নদীর ৯০.১৫ কিলোমিটার, পাগলা নদীর ৯ কিলোমিটার এবং এন্ডারসন খালের ৩.৬০ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :