নববধূকে নির্যাতন, শ্বশুর-শাশুড়িসহ গ্রেফতার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশনকারী সাবিনা খাতুন আন্নি নামে এক নববধূকে নির্যাতনের মামলায় তার শ্বশুর-শাশুড়িসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- সাবিনার শ্বশুর উপজেলার নসরতপুর গ্রামের আজাহার আলী সরকার (৫৫), শাশুড়ি রাবেয়া বেগম (৪৫) ও ননদের স্বামী বিলকাজুলি গ্রামের আব্দুস ছাত্তার (৩৮)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাচথুপি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে সাবিনা খাতুন আন্নির (২২) সঙ্গে প্রায় দশ মাস আগে নসরতপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে রাশেদের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর থেকে নববধূর কাছে থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে রাশেদ। কিন্তু যৌতুকের টাকা পরিশোধ না করায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী নির্যাতন করে দুই মাস আগে সাবিনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর সাবিনা আশ্রয় নেয় বিধবা মায়ের বাড়িতে।

এ বিষয় নিয়ে উভয় পরিবারের মাঝে একাধিক বার শালিস বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। এ অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে স্বামীর বাড়িতে যান সাবিনা। এ সময় সাবিনাকে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মারপিট করে আহত অবস্থায় বাড়ির পাশে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে স্থানীয় লোকজন আহত সাবিনাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যার দিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই সাবিনা খাতুন আন্নি বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনকে আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে সাবিনার শ্বশুর আজাহার আলী বলেন, বিয়ের দুই মাস পরই সাবিনাকে তালাক দিয়েছে আমার ছেলে। তারপরও স্ত্রীর দাবি করায় আমার ছেলে তাকে মারধর করেছে। তবে মারধরের ঘটনার সঙ্গে আমরা জড়িত নয়।

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, সাবিনা খাতুনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ধুনট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে নির্যাতিত নববধূর চিকিৎসার খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

লিমন বাসার/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।