বগুড়ার ১২ উপজেলায় নতুন মুখ ৮, এমপির স্ত্রী বাদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বগুড়া
প্রকাশিত: ১২:২২ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বগুড়ার জেলার ১২টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডিতে দলের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে আটটি নতুন মুখ এবং চারটিতে পুরনোরাই প্রাধান্য পেয়েছেন।

বগুড়ার ১২ উপজেলায় যাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তারা হলেন বগুড়া সদর উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শাঁখারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান শফিক, সারিয়াকান্দিতে সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার, সোনাতলায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতা স্থানীয় এমপির শ্যালক মিনহাদুজ্জামান লিটন, শেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, আদমদীঘিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, শিবগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক, ধুনটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন, গাবতলীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ আযম খান, দুপচাঁচিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, কাহালুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, নন্দীগ্রামে যুবলীগের সাবেক নেতা রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ এবং শাজাহানপুরে উপজেলা যুবলীগ নেতা সোহরাব হোসেন ছান্নু।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারিয়াকান্দিতে স্থানীয় ও জেলা আওয়ামী লীগ সাংসদ আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নানকে প্রথমে জেলা থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র তাকে বাদ দিয়ে সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ত্যাগী নেতা অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকারকে মনোনয়ন দিয়েছে। একইভাবে শাজাহানপুরে দলের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম তালেবকে বাদ দিয়ে যুবলীগ নেতা সোহবার হোসেন ছান্নুকে, দুপচাঁচিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হককে বাদ দিয়ে সভাপতি মিজানুর রহমান খানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

তবে এবারের যে ১২ জনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আট জন নতুন মুখ। বাকি চারজন গতবারের পরাজিত প্রার্থী। তারা হলেন শেরপুরে মজিবর রহমান মজনু, আদমদীঘিতে সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, শিবগঞ্জে আজিজুল হক ও গাবতলীতে এ এইচ এম আযম খান। এ ছাড়া ২০০৯ সালে নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিজয়ী যুবলীগ নেতা রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান শফিক বলেন, ‘বগুড়ার ১২টি উপজেলার দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এই উপজেলা আওয়ামী লীগকে উপহার দিতে চাই।’

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু প্রার্থী ঘোষণার বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশে আমরা একক প্রার্থীর তালিকা পাঠিয়েছি। কেন্দ্র সব কিছু বুঝেশুনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। এখন আমরা অতীতের সব কিছু ভুলে দলের স্বার্থে দলীয় প্রার্থীককে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করব।’

তবে কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হোন তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

লিমন বাসার/এসআর/এমকেএইচ