বরিশালে গাছের পাতা নিয়ে হামলা-ভাঙচুর লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের কায়েতমারা গ্রামে ঝরে পড়া গাছের পাতা নেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় প্রতিপক্ষের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। সংঘর্ষে দুই নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ঘরের টিভি, ফ্রিজসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। সেই সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে কায়েতমারা গ্রামের নূরু হাওলাদারের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নূরু হাওলাদারের স্ত্রী শাহানুর বেগম, মেয়ে হাফিজা বেগম, ছেলে সাগর হাওলাদার, ইমন হাওলাদার ও সরোয়ার হোসেনসহ ১০ জন আহত হন। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করলে শাহানুর বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কায়েতমারা গ্রামের হানিফের মেয়ে এবং রশিদ সরদারের স্ত্রী ডালিয়া বেগম রান্না করার জন্য পাশের বাড়ির নূরু হাওলাদারের বাগান থেকে ঝরে পড়া গাছের পাতা কুড়িয়ে নেন। নূরু হাওলদারের মেয়ে হাফিজা বেগম তাদের পাতা নেয়ার বিষয়ে ডালিয়া বেগমের কাছে জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে কথার কাটাকাটি হয়। কথার কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ডালিয়া বেগমের স্বামী রশিদ সরদার, ভাই শরীয়ত উল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে ২০-২৫ জন লোক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নূরু হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর, টিভি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেন।

barishal-arson-wounded

এতে নূরু হাওলাদারের স্ত্রী শাহানুর বেগম, মেয়ে হাফিজা বেগম, ছেলে সাগর হাওলাদার, ইমন হাওলাদার ও সরোয়ার হোসেন বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদেরকে পিটিয়ে আহত করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা শাহানুর বেগমের বাম পা ভেঙে দিলে সাগর, ইমন ও সরোয়ার প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার শুরু করেন।

সংবাদ পেয়ে মুলাদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের নিয়ন্ত্রণ করেন। এ সময় হামলার সঙ্গে জড়িত থাকায় হানিফের মেয়ে ডালিয়া বেগম, ডালিয়ার শাশুড়ি মমতাজ বেগম ও সুফিয়া বেগমসহ চাজনকে আটক করে মুলাদী থানায় নিয়ে যায়।

পাশাপাশি আহতদের উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করলে শাহানুর বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান।

মুলাদী থানার পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নূরু হাওলাদারের মেয়ে হাফিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাইফ আমীন/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।