আ.লীগ নেতার জন্য ধরা খেলেন কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বগুড়ায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় শহর (উত্তর) স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির হয়ে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন নিজ দলের একজন কর্মী। পরে মূল আসামি আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও প্রতারণার দায়ে নেতা-কর্মী উভয়কে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (২) আদালতে। আদালতের বিচারক ইশরাত জাহান প্রতারণার অভিযোগে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের (উত্তর) সভাপতি মশিউর রহমান মন্টি ও একই দলের কর্মী রিফাত শেখের বিরুদ্ধে ৪২৬ ধারায় নিয়মিত মামলার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে মন্টির বিরুদ্ধে চলমান বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটির জামিন বাতিল করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলার আসামি ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মন্টিসহ আরও পাঁচজন। এ মামলায় মন্টি ছাড়াও আরিফ, রানা, মুরাদ ও ময়েন নামের আরও চারজন আসামি ছিলেন। আসামিরা প্রত্যেকেই জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

মঙ্গলবার এ মামলার শুনানি ছিল বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (২) আদালতের বিচারক ইশরাত জাহানের এজলাসে। যথারীতি মামলার আইনজীবী আব্দুস সালাম মন্ডল পাঁচজন আসামির হাজিরা বন্ডে স্বাক্ষর করে বিচারকের পেশকারের কাছে জমা দেন। দুপুরে আদালতে শুনানিকালে নিজেকে মন্টি দাবি করা যুবকের প্রতারণা ধরে ফেলেন বিচারত। কারণ শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি কাজী রবিউল আলম মিঠু আদালতকে জানান কাঠগড়ার ব্যক্তি মন্টি নয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে মন্টির হয়ে আদালতে হাজিরা দিতে আসার কথা স্বীকার করে রিফাত।

bogra

ঘটনাটি জানতে পেরে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের (উত্তর) সভাপতি মশিউর রহমান মন্টি ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর আদালতে ছুটে যান। তার হয়ে আইনজীবী রাফি বিন মমিন পুনরায় আরও একটি হাজিরা বন্ডে স্বাক্ষর করে বিচারকের পেশকারের কাছে জমা দেন।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিষয়টি স্বীকার করেন মন্টি। সেই সঙ্গে ভুল স্বীকার করে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু প্রতারণার দায়ে তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। একই সঙ্গে মূল আসামি এবং তার পক্ষে হাজিরা দিতে আসা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন।

শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের (উত্তর) সভাপতি মশিউর রহমান মন্টির পক্ষের আইনজীবী রাফি বিন মমিন বলেন, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। মন্টি জানত না হাজিরার কথা। তার হয়ে এটা কে করলো সেটি দেখতে হবে।

অন্যদিকে প্রথমে আসামির হাজিরা বন্ডে স্বাক্ষর করা এ মামলার আইনজীবী আব্দুস সালাম মন্ডল বলেন, মন্টি আসবে বলেই তার ছেলেরা হাজিরা বন্ড জমা দিতে বলেছিল। পরে তার বদলে অন্যজন কাঠগড়ায় উঠলে বিচারক ধরে ফেলেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের (উত্তর) সভাপতি মশিউর রহমান মন্টি এবং তার কর্মী রিফাত কারাগারে থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। মন্টি ও রিফাতের বাড়ি বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি এলাকায়।

লিমন বাসার/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :