জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার ২ পুলিশ ক্লোজড

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৪:১৯ পিএম, ০৪ জুন ২০১৯

ভৈরবে কলেজ শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।

প্রত্যাহারকৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন এসআই আবুল খায়ের ও এসআই আজিজুল হক। মঙ্গলবার সকালে তাদের প্রত্যাহার করে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।

শনিবার রাতে ভৈরবের কলেজ শিক্ষার্থী সজীব আহমেদকে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে চেষ্টা করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। সজীব আহমেদ সম্ভুপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। তার বাবার নাম সাব মিয়া এবং বাড়ি ভৈরবের সম্ভুপুর এলাকায়। ঘটনার দিন দুই বন্ধুসহ সজীব ভৈরব বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় যাওয়ার পথে শহরের বঙ্গবন্ধু রোডের চান্ডভান্ডারের কাছে পৌঁছালে তাদের গতিরোধ করে পুলিশ।

এ সময় সজীবের দুই বন্ধু পালিয়ে গেলেও তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে থানায় যেতে বলে পুলিশ। তারপর এসআই আজিজুলকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে থানার কথা বলে সম্ভুপুর চলে যায় সজীব।

বিষয়টি দেখে এসআই আবুল খায়ের সজীবের পেছনে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছেন। সজীব এলাকায় গিয়ে মোটরসাইকেল ফেলে দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে বাবাকে ঘটনাটি জানায়। সজীবের বাবা ঘটনা শুনে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানালে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ধরে গণধোলাই দেয় গ্রামবাসী।

ঘটনার সময় দুই পুলিশের গায়ে পোশাক ছিল না বলে জানান এলাকাবাসী। এ ঘটনার খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশের একটি টিম সম্ভুপুর থেকে দুই পুলিশকে উদ্ধারসহ ছয়জন সাধারণ মানুষকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রোববার ঘটনাটি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মীমাংসা করে আটককৃত সজীবের বাবাসহ ছয়জনকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

এরই মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেন।

সোমবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান ঘটনা তদন্ত করতে ভৈরবে আসেন। তিনি অভিযোগকারী, অভিযুক্ত দুই পুলিশ, থানা পুলিশের ওসি, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনার সত্যতা কিছুটা আছে বলে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন। তদন্ত শেষে সোমবার রাতে পুলিশ সুপারকে ঘটনাটি অবহিত করলে মঙ্গলবার সকালে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়।

ভৈরব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, এ ঘটনার তদন্তের ব্যাপারটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান বলতে পারবেন। তবে অভিযুক্ত দুই এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :