গভীর রাতে ডাকাতকে জাপটে ধরলেন গৃহকর্তা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৭:৪৮ পিএম, ১২ জুন ২০১৯

ভৈরবের গজারিয়া ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামে এক বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা ওই বাড়ি থেকে তিন লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণের গহনা লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানান গৃহকর্তা মুর্শিদ মিয়া।

ঘটনার সময় এক ডাকাতকে ধরে পুলিশে দেন গৃহকর্তা। ধরা পড়া ডাকাতের নাম কামাল মিয়া (৫০)। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর গ্রামের মতি মিয়ার ছেলে।

ডাকাতকে ধরতে গিয়ে গৃহকর্তা আহত হন। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় এক ডাকাত ধরা পড়লেও কয়েকজন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ভৈরব থানায় গৃহকর্তা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মুর্শিদ মিয়ার বাড়িতে জুতার কারখানা রয়েছে। তিনি জুতা উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৩টার দিকে ঘরে আওয়াজ হলে গৃহকর্তার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় কয়েকজন লোককে ঘরে দেখে তিনি চিৎকার করলে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।

চিৎকার শুনে ডাকাতরা পালিয়ে গেলেও গৃহকর্তা এক ডাকাতকে ধরে ফেলেন। ঘটনার সময় অন্য ডাকাতরা তার আলমারি ভেঙে তিন লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণ নিয়ে যান।

ডাকাতকে ধরে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে রাতেই বিষয়টি জানানো হয়। সকালে থানায় খবর দিয়ে ধরা পড়া ডাকাতকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়া ডাকাত দুই সহযোগীর কথা বলেছেন।

তারা হলেন চান্দেরচর গ্রামের জিল্লু মিয়ার ছেলে সাহাব উদ্দিন ও একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে সোহেল মিয়া। তারা তিনজন ডাকাতির ঘটনায় জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

মুর্শিদ মিয়া বলেন, ডাকাতকে ধরার সময় ছুরি দিয়ে আঘাত করলে আমার হাত কেটে যায়। তবুও ডাকাতকে আমি ছাড়িনি। ডাকাতরা আমার তিন লাখ টাকাসহ দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।

ভৈরব থানা পুলিশের ওসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, গ্রেফতার ডাকাত কামাল তার দুই সহযোগীর নাম বলেছেন। জুতা কারখানার মালিক মুর্শিদ মিয়ার বাড়িতে টাকা থাকার বিষয়টি জানতেন ডাকাতরা। দুই ডাকাতকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/পিআর