ফরিদপুর চিনিকলের ইউরিয়া নিয়ে বিপাকে আখচাষিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২০

ফরিদপুরের মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরবরাহ করা ইউরিয়া সার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আখ চাষিরা। এ সার জমিতে প্রয়োগ করার পর তাতে কাজ হচ্ছে না। উল্টো তাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। অথচ মৌসুমের শেষে এ নষ্ট সারের টাকাই তাদেরকে সুদে আসলে পরিশোধ করতে হবে। বিষয়টি চিনিকল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

ফলে এসব আখচাষি এবার ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। পাশাপাশি এ নষ্ট সারের কারণে ফরিদপুর চিনিকলে এবার আখ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটবে বলে তারা জানান।

ফরিদপুর চিনিকল সূত্র জানায়, এ চিনিকলে তালিকাভুক্ত আখচাষি রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে আখচাষিদের মধ্যে সাড়ে ৪শ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ সার কৃষকেরা হাতে পান। এছাড়াও মিল কর্তৃপক্ষ চাষিদের ইউরিয়া সার ছাড়াও টিএসপি ৪শ মেট্রিকটন এবং এমপিও সার আড়াইশ মেট্রিকটন বিতরণ করে।

Faridpur-(3).jpg

আখচাষি কৃষকদের অভিযোগ, এবারের এ সরবরাহকৃত ইউরিয়া সারের এক-চতুর্থাংশই জমাটবদ্ধ ও কালচে। বেশির ভাগই পাথর বা ইটের আকৃতির। অনেক বস্তায় ময়লাযুক্ত ও নষ্ট হয়ে যাওয়া সারও রয়েছে। যা একবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী। অনেকেই এ সার ব্যবহার না করে বরং বাইরের দোকান থেকে টাকা দিয়ে সার কিনে জমিতে দিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যবহার না করায় এসব সার তাদের ঘরেই পড়ে আছে। চিনিকল কর্তৃপক্ষ সেসব ফেরত নিচ্ছেন না।

মধুখালীর মেছরদিয়া এলাকার আখচাষি মীর আব্দুর রহমান বলেন, আখ চাষের জন্য তাদের মাঝে ঋণ স্বরূপ এ ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয়। বস্তা ভর্তি এ সার বাড়িতে নিয়ে খোলার পর সেখানে বড় বড় পাথরের খণ্ড পান। কালচে ময়লাযুক্ত এ সার জমিতে একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী।

তিনি অভিযোগ করেন, চিনিকলে ফেরত দিতে গেলে এ সার তারা ফেরত নেয়নি। বরং হুমকি দিয়ে বলেছে, নিলে নাও না নিলে ফেলে দাও। তোমাদের মতো চাষি না থাকলে কিছু হবে না।

কুদ্দুস খান, আলেয়া বেগম ও আইয়ুব মোল্লাসহ আরও কয়েকজন আখচাষি বলেন, নিজের জমিতে আখ চাষ করি। এ সারতো আমাদের বিনামূল্যে দেয়নি। উল্টো সারের টাকার সঙ্গে সুদের টাকাসহ ফেরত দিতে হবে।

তারা জানান, এ সার জমিতে না দিতে পেরে উল্টো বাজার থেকে নিজের টাকায় সার কিনে জমিতে দিয়েছি। এখন সার কেনার জন্য অতিরিক্ত টাকার পাশাপাশি এ সারের ঋণের টাকাও আমাদের সুদাসলে পরিশোধ করতে হবে।

Faridpur-(3).jpg

ফরিদপুর চিনিকল আখচাষি কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পরে আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে আখচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি আখ উৎপাদনও কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সঙ্গে এমন আচরণের বিষয়টি কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা চাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক, পাশাপাশি কীভাবে ব্যবহার অনুপযোগী এ সার কৃষকদের দেয়া হলো সেই বিষয়টিও তদন্ত করা হোক।

এ বিষয়ে ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল বারী ইউরিয়া সার জমাটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এ সারের গুণগত মান সঠিক রয়েছে বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, এবারের মৌসুমে যে সার আখচাষিদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে তার মধ্যে একটি অংশ পুরাতন ছিল। সেই সারই জমাট বেঁধে গেছে। কিন্তু গুণগত মান নষ্ট হয়নি। আখচাষিদের দাবির ব্যাপারে তিনি বলেন, ইউরিয়া সঠিক নিয়মে ছিটালে ফলন নিয়ে কোনো সংশয় থাকবে না।

তিনি বলেন, চলতি আখ রোপন মৌসুমে দশ হাজার একর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় এক লাখ মেট্রিকটন আখ।

বি কে সিকদার সজল/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।