আম্ফানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, হারিকেন-মোমবাতি নিয়েও ব্যবসা!

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ২৪ মে ২০২০

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। বুধবার (২০ মে) থেকে বিদ্যুৎ নেই যশোরের বেনাপোলসহ শার্শা, নাভারন ও বাগআঁচড়া এলাকায়। রাতে আলো জ্বালানোর জন্য মানুষ হন্যে হয়ে এ দোকান ও দোকান খুঁজে ফিরছে হারিকেন, হারিকেনের কাঁচ, ল্যাম্প, কেরোসিন ও মোমবাতি। কোথাও মিলছে না আলো জ্বালানোর কোনো উপকরণ।

শুক্রবার (২২ মে) সীমিত পরিসরে বেনাপোল বাজার, শার্শা উপজেলা সদর ও বাগআঁচড়া বাজারে আলো জ্বালানো হলেও কবে নাগাদ উপজেলার সর্বত্র বিদ্যুতের আলো জ্বলবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বুধবার সকাল থেকে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে বিভিন্ন দোকানে মোমবাতি সংগ্রহের জন্য। কিন্তু দোকানদাররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাজার থেকে মোমবাতি উধাও হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ পড়েছে ভোগান্তিতে। তারা বলছেন এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে মোমবাতি বিক্রি করেছে। আর সাধারন মানুষ নিরুপায় হয়ে বেশি দামেই মোমবাতি কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

বেনাপোলের মুদি ব্যবসায়ী শফি বলেন, এখনতো আর কেউ হারিকেন জ্বালায় না। তাই এসব পণ্য আর দোকানে রাখা হয় না। মোমবাতি যা ছিল তা বিক্রি হয়ে গেছে। যশোরের মার্কেট বন্ধ থাকায় মালামালও আনতে পারছি না।

ভাই ভাই স্টোরের মালিক মিকাইল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার কারণে হারিকেন, ল্যাম্প এখন আর কারো বাড়িতে নেই। তাই কেরোসিনও দোকানে রাখিনা।

অগ্রভুলোট গ্রামের মতিয়ার রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আমাদের নিঃস্ব করে দিয়ে গেল। বাড়িঘর সব ভেঙে গেছে। রোজার মাস। রাতে দুটো ভাত খাব তাও আন্ধারে খাতি হবে। হারিকেন, লম্প কোথায় আছে তাও খুঁজে পালাম না। দোকানে কোথাও মোমবাতিও পালাম না।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শার্শা জোনাল অফিস থেকে বেনাপোল, উপজেলা সদর ও নাভারন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ওই অফিসের লাইনম্যান (গ্রেড-১) আবুল কালাম বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎলাইনের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। শুক্রবার বিকেলে বেনাপোল বন্দর, উপজেলা পরিষদ ও থানার সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঈদের আগে তো হবেই না কবে নাগাদ পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া যাবে তা বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা এরকম বড় ঝড় মোকাবেলা আগে করিনি। তাই একটু ঝামেলা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের জনবল কম। এই অল্প সংখ্যক লোক নিয়ে বিপুল পরিমাণ লাইনের কাজ করা কষ্টকর। কাজ শেষ হতে দেরি হবে। মাস খানেকও লেগে যেতে পারে।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) হাওলাদার রুহুল আমিন বলেন, এই অফিসের আওতায় গ্রাহক সংখ্যা এক লাখের অধিক। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে এই এলাকার দুইশ’র উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। তার ছিঁড়েছে বহু জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা বলা যাচ্ছে না। তবে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহের।

জামাল হোসেন/এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]