লিবিয়ায় হত্যা : ফরিদপুরের কামরুলের ঘটনা যশোরের রাকিবুলের মতোই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১২:০৬ এএম, ৩১ মে ২০২০

লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের আলমপুরা গ্রামের কবির শেখের ছেলে কামরুল ইসলাম শেখ।

একটু স্বচ্ছলতার আশায় তার দরিদ্র বাবা তাকে জমি বিক্রি করে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু মানব পাচারকারী চক্রের দাবি মতো চাঁদার টাকা না দেয়ায় অন্যদের সাথে তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।

একই ঘটনা ঘটেছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার খাটবাড়িয়া গ্রামের ইসরাইল হোসেনের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিবের (২০) ক্ষেত্রেও

আলমপুরা গ্রামের কবির শেখের ছেলে নিহত কামরুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। কামরুলের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তার পরিবারে চলছে এখন শোকের মাতম।
উপার্জনক্ষম কামরুলকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।

নিহতের বাবা কবির শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে গোপালগঞ্জ জেলার মোকসুদপুর উপজেলার গোয়ালা গ্রামের জনৈক আব্দুর রবের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে কামরুলকে বিদেশ পাঠায় তার পরিবার। এরপর সে ভারত ও দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছে।

তিনি আরও জানান, সংসারে অভাব-অনটন লেগে থাকতো। একটু সুখের আশায় দালালের কথা মতো সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ও জমি বিক্রি করে সাড়ে চার লাখ টাকা জোগাড় করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম।

নিহতের বড় ভাই ফারুক শেখ জানান, লিবিয়ায় পৌঁছার পর দালাল চক্র তাকে অন্যদের সাথে একটি শহরে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। এরপর মোবাইল ফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ করে কামরুলকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পাচারকারী চক্রটি। নইলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।

ভাইয়ের জীবনের কথা ভেবে টাকা দিতে তারা ধারকর্জ করে রাজিও হয়েছিলেন বলে জানান তিনি। কিন্তু সেই টাকা পাঠানোর আগেই মিজদা শহরে কামরুলসহ ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করার খবর পেলেন তারা।

সালথা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, লিবিয়ায় গুলিতে কামরুল নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিব সরকার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি আমরা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কামরুলের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য ব্যবস্থাগ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, যে দালাল চক্রের দ্বারা এমন ঘটনা ঘটেছে তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বি কে সিকদার সজল/এমএএস/এসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]