বৃষ্টি হলেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন ২০ গ্রামের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১২:৫৫ পিএম, ২৫ জুন ২০২০

কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি-রাজারকুল সড়কের দৈর্ঘ্য ৮ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে মিনি জলাশয়ের। খানাখন্দ হিসেবে সড়কটির প্রায় অর্ধেকাংশই ক্ষত-বিক্ষত। ফলে জন ও যান চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন মিঠাছড়ি ও রাজারকুল ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ।

দক্ষিণ মিঠাছড়ির পশ্চিম উমখালীর বাসিন্দা সাঈদ মেহেদী রোনাদ বলেন, আমার বাড়ি থেকে কাঠিরমাথা স্টেশন পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার। এটি যেতে আগে সময় লাগত মাত্র ১০ মিনিট। কিন্তু সড়কের ভঙ্গুর অবস্থার কারণে এখন ৪০ মিনিটের বেশি সময় ব্যয় হয়। আট বছর আগে সড়কটি কার্পেটিং হয়। এরপর থেকে নানা ধরনের যানবাহন চলাচল এবং বন্যার ধকলে ধীরে ধীরে গর্তের সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিগত অর্ধযুগেও এটি পুনঃমেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অথচ সড়কটি মিঠাছড়ি, উমখালী, রাজারকুলসহ আশপাশের প্রায় ১৫-২০ গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এসব সাধারণ মানুষ।

উমখালীর নুর মোহাম্মদ বলেন, এলাকার শিক্ষার্থী যাতায়তসহ সব ধরনের যোগাযোগে সড়কটিই একমাত্র ভরসা। সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে কোনো রোগী নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে বের হওয়া দুরূহ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের আনা নেয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

Ramu

শুষ্ক মৌসুমের চেয়ে দুর্ভোগ বেশি বাড়ে বর্ষায়। রাস্তার ছোট-বড় গর্তে অনেক সময় উল্টে যায় রিকশা, টমটম, সিএনজি, ভ্যানগাড়ি, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন।

সড়কটির অটোরিকশা চালক মুহাম্মদ জুনাইদ (৩২) বলেন, ইচ্ছা থাকলেও রাতে বিপদগ্রস্ত কোনো মানুষকে সেবা দিতে পারি না। খানাখন্দে পড়ে উল্টে গেলে যাত্রীরা যেমন আঘাত পান তেমনি গাড়ির ক্ষতি হয়। তাই বৃষ্টি হলেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন গ্রামের মানুষ।

মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউনুচ ভুট্টো বলেন, একাধিকবার উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি তুলে ধরে সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন এলজিইডি কর্মকর্তারা। কিন্তু এখনো মেরামত কাজ শুরু হয়নি। ফলে ৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে (সামগ্রিক হিসাবে প্রায় অর্ধেকাংশ) খানাখন্দে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ইউনিয়নের সববয়সী মানুষ।

Ramu-1

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) রামু উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। ফলে তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে তার (এলজিইডির রামুর) অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান হয়েছে সম্প্রতি। বর্ষা শেষ হলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যায়।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।