যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দুই কমিটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০২:৫৭ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০২০

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অমানুসিক মারপিটে তিন কিশোর নিহত ও আরও ১৫ কিশোর আহতের ঘটনায় গ্রেফতার কেন্দ্রের ৫ কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রকিবুজ্জামান রোববার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার বিকেলে আদালত ৫ জনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করার পরপরই তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। আজও (রোববার) তা চলমান রয়েছে।

এদিকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ওই ঘটনায় সমাজসেবা অধিদফতর দুই সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল সেটি ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদফতর ঢাকার পরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বশির বলেন, ইতোমধ্যেই তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কিশোরদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্তের জন্য আজই তারা যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে যাবেন। এরপর ঢাকায় গিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের রিপোর্ট প্রদান করবেন।

ইতোমধ্যেই এ কমিটি বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে বলে জানা গেছে। কিশোরদের নির্মমভাবে মারপিটের পরও সময়মতো যদি তাদের হাসপাতালে নেয়া হত তাহলে প্রাণহানির ঘটনা নাও ঘটতে পারতো বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। নিহত তিন কিশোরকে হাসপাতালে নেয়া হয় মৃত অবস্থায়। আর ঘটনার প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা পর আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ তদন্ত কমিটির অপর সদস্য হলেন সমাজসেবা অধিদফতর ঢাকার উপপরিচালক এমএম মাহমুদুল্লাহ।

এদিকে একই ঘটনার তদন্তে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবু লাইছকে প্রধান করে তিন সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় সেই কমিটিও তাদের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তমিজুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে তিন কিশোরকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও ১৫ কিশোর। প্রথম দিকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন এবং বলেন যে, কেন্দ্রের শিশু কিশোরদের দুটি গ্রুপের মধ্যে মারামারিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। কিন্তু পরে আহত কিশোরদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট হতে থাকে যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দয় মারপিটের কারণেই তিন কিশোর নিহত ও ১৫ কিশোর আহত হয়।

পরে নিহত কিশোর রাব্বির বাবা রোকা মিয়া বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অজ্ঞাত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করে।

মিলন রহমান/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।