নদীর পাড় দখল করে প্রাচীর নির্মাণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ০২ মার্চ ২০২১

রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল জমি বেদখল হলেও তাতে নজর না দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় দখল করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ দখল বৈধতা দিতে একটি চক্র পরিকল্পনা করে নদীর পাড় দখল করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ করছে স্থানীয়রা। এসবের কিছুই জানে না দাবি করেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফা বেগম।

দীর্ঘ একযুগের অধিক সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের ৪৫ শতক জমি থেকে সাড়ে ২২ শতক জমি বেদখল হয়। দখলকৃত জমি উদ্ধারের চেষ্টা না করে নদীর পাড় দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে কায়েতপাড়ার পূর্বগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সদর ভূঁইয়ার ছেলে আজহারুল হকের দানকৃত ৪৫ শতক জমিতে নির্মাণ করা হয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রটি। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল ওই কেন্দ্রের জমি থেকে ২২ শতক হিস্যা জটিলতা দেখিয়ে দখল করে নেয়।

এদিকে হাসপাতালের নিরাপত্তায় উপজেলা পরিষদ থেকে প্রাচীর নির্মাণের জন্য ২২ লাখ ৫৭ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ কাজ পায় এমএম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানটি তড়িঘড়ি করে হাসপাতালের জমিতে সীমানা প্রাচীর না করে নদীর সীমানায় নির্মাণ করে দেয়। এমনকি হাসপাতালের মূল জমি বেদখল রেখে চারপাশে সীমানা প্রাচীর করার কথা থাকলেও শুধু তিনদিকে প্রাচীর নির্মাণ করে বিল আদায় করে নেয় ঠিকাদার।

সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথমবার ২০০৯ সালে তৎকালীন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান সিদ্দিকী সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেও কোনো সুরাহা পাননি।

jagonews24

সবশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ওই ৪৫ শতক জমিতে সীমানা প্রাচীরের আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্মকর্তা। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ থেকে একই বছর ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

পূর্বগ্রামের বাসিন্দা ও কায়েতপাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি জায়েদ আলী বলেন, ‘দখলদাররা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে দ্রুত সীমানা প্রাচীরের কাজ শেষ করেছে। ফলে হাসপাতালটি উভয় দিক থেকে জমিবঞ্চিত হয়েছে। তাছাড়া নদী সীমানায় প্রাচীর করার সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা অর্থের বিনিময়ে কোনো স্থানে আরএস রেকর্ড ধরে কোনো স্থানে সিএস মূলে তাদের মনগড়া সীমানা পিলার স্থাপন করে আসছে। নদীর সীমানা নির্ধারণে ঠিকাদারদের অনিয়ম রয়েছে।’

এ বিষয়ে এমএম এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার মহিউদ্দিন বলেন, ‘কোনো পক্ষ থেকে ম্যানেজ হইনি। আগে সীমানা প্রাচীর করেছি পরে নদীর সীমানা পিলার করা হয়েছে। যতটুকু কাজ করেছি ততটুকুর বিল উত্তোলন করেছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী এনায়েত কবীর বলেন, ‘জমি যতটুকু বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে ততটুকুতেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।’

বিআইডব্লিউটির অধীনে ওটিভিএল নামীয় ঠিকাদারের নিযুক্ত প্রকৌশলী তুষার আহমেদ বলেন, ‘সিএস রেকর্ড অনুযায়ী শীতলক্ষ্যার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি ওই হিসেবে আংশিক নদীর সীমানায় পড়েছে। কোনো স্থানেই মনগড়া সীমানা করা হয়নি।’

কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বরত এসওসিএমও সাহনিন সুলতানা বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মালিকানার ৪৫ শতকের পরিবর্তে কেবল ২২ শতক প্রাচীর করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে দেখলাম নদীর সীমানা পিলারও করা হয়েছে এই প্রাচীরের ভেতরেই। ফলে আমাদের এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি কমে এসেছে। মূল জমি বেদখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন মহলকে লিখিত জানিয়েছি।’

পূর্বগ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রুজেল খান বলেন, ‘হাসপাতালের নামে জমিদাতা আজহারুল হক রেকর্ডীয় সূত্রে মাত্র ২৩ শতক জমির মালিক হয়ে ৪৫ শতক লিখে দিয়েছেন। তার পুরো জমিতে মালিকানার বৈধতা নেই। এ নিয়ে বিরোধ রয়েছে।’

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফা বেগম বলেন, ‘নদীর সীমানা পিলার হাসপাতালের অভ্যন্তরে পড়েছে জানা নেই। কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের জমি সংক্রান্ত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছি।’

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহান বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে জানি। দখল বিষয়ে পুনরায় তদন্ত চলছে।’

মীর আব্দুল আলীম/আরইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]