শিশুকে অতিরিক্ত টিকা দিয়ে বরখাস্ত রাসিক স্বাস্থ্যকর্মী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ১২:৩৪ এএম, ১০ জানুয়ারি ২০২২

রাজশাহীতে সুমাইয়া নামের ১০ মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে অতিরিক্ত টিকার ডোজ প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ছোট বনগ্রাম এলাকার আরবান ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটির বাবা-মার অভিযোগ, স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা কার্ড না দেখেই টিকার অতিরিক্ত ডোজ দিয়েছেন। এসময় সেখানে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা মোবাইলে ব্যস্ত ছিলেন। টিকা প্রদানের পূর্বে বার বার সঠিক তথ্য বলার পরও তারা ভুল টিকাই শিশুটিকে প্রদান করেছেন। পরে বুঝতে পারার পর তাদের উল্টো ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ি যেতে বলেন।

শিশুটির মা মৌসুমী জানান, গত ১২ ডিসেম্বর চতুর্থ টিকার ডোজ দেওয়ার কথা ছিল। এর আগে গত বছরের ২৩ জুন তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছিল। ১২ ডিসেম্বরের টিকাটি রাজশাহীতে না থাকার কারণে প্রদান করা হয়নি। তবে আজ চতুর্থ ডোজের বিলম্ব টিকা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাদের সেই বিষয়টি বার বার বলার পরও তারা বলেন খাতায় তৃতীয় ডোজ প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা নাই। তাই তৃতীয় ডোজটিই দিতে হবে বলে জোরপূর্বক আবারও হাতে ও পায়ে দুই ডোজ টিকা প্রদান করেন। কিন্তু নিয়ম অনুসারে চতুর্থ ডোজ টিকা আজ নেওয়ার কথা রয়েছে। এনিয়ে একই টিকার ডোজ ডাবল দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, টিকা প্রদানের ঘণ্টাখানেক পর থেকেই বাচ্চা প্রচণ্ড কান্নাকাটি করছে। কোনভাবেই স্থির থাকছে না। এনিয়ে খুব চিন্তিত আমরা। তবে রাসিক স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, এর আগেও অনেককেই ভুল করে ডাবল ডোজ দেওয়া হয়েছে। কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। আপনার বাচ্চারও কিছু হবে না।

শিশুটির মায়ের সঙ্গে টিকাকেন্দ্রে গিয়েছিলেন সুমাইয়ার দাদি। তিনি বলেন, টিকা দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা মোবাইলে মশগুল ছিলেন, কেউবা ফোনে কথা বলায়। আমি ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকার বিষয়ে আপত্তি জানালে তারা উল্টো আমাকে ধমক দিয়ে বলেন- ‘আপনার সমস্যা কোথায়। টিকা দেওয়াতে আসছেন, টিকা নিয়ে বাড়ি যান।’

শিশুকে ডাবল ডোজ দেওয়ার ঘটনাটি জানার পর সুমাইয়ার বাবা সাদ্দাম আরবান ক্লিনিকে এসে অভিযোগ করেন। এতে রাসিক স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারভাইজার আজহার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উল্টো ভয়ভীতি দেখান বলে জানান সাদ্দাম। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য বার বার বলার পরও তারা আমার বাচ্চাকে ডাবল ডোজ টিকা দিয়েছেন। তারপর থেকে বাচ্চা বেশ অসুস্থ। একথা তাদের বলতে গেলে তারা উল্টো হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। বলছেন, পারলে যা ইচ্ছে তাই করেন।

তিনি বলেন, আমি গরীব মানুষ। তাদের সঙ্গে আমি পেরে উঠবো না। তাই কাউন্সিলরকে বিষয়টি অবহিত করে চন্দ্রিমা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। আমার বাচ্চার যদি কিছু হয়ে যায় এ দায়িত্ব কে নিবে? তাই নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি বলে জানান সাব্বির।

এবিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন বলেন, দায়িত্বে অবহেলা করে টিকা প্রদানের ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে রাসিকের জনস্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মী জোৎস্না, শিল্পী, তহমিনা ও সুপারভাইজার আজাহার আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক ও স্থানীয়রা মধ্যে বেশ বাকবিতণ্ডা হয়। তবে সেখানে আমি দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি এবং বাচ্চার বিষয়ে করপোরেশন থেকে সার্বিক খোঁজখবর নিতে বলেছি।

তিনি বলেন, এবিষয়ে রাসিক স্বাস্থ্যবিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ডাবলডোজ টিকা প্রদানে তেমন কোন সমস্যা হবে না। সামান্য জ্বর ও গা-হাত ব্যাথা হবে। সেটি কয়েকদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।

এবিষয়ে রাসিক স্বাস্থ্য বিভাগের টিকা প্রদানকারী সুপারভাইজার মো. আজাহার আলী বলেন, একটি ক্যাপসুল জাতীয় টিকা ও তিনটি ইনজেকশনের মাধ্যমে আজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। ওই সময় আমি টিকা কেন্দ্রে ছিলামনা। অন্য একটি কেন্দ্রে টিকা প্রদানের বিষয়ে গিয়েছিলাম। টিকাটি ভুলবশত জোৎস্না নামের এক স্বাস্থ্যকর্মী রেজিস্টার খাতা ও টিকা প্রদানের ট্যাব না দেখেই বাচ্চাটিকে প্রদান করেছে। এ দায়িত্ব তার।

জানতে চাইলে রাসিকের জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, এঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি। আপাতত তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে প্রতিবেদকের সামনেই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুপারভাইজার আজাহার, জোৎস্না, শিল্পী ও তহমিনাকে তার চেম্বারে ডেকে বাচ্চার বাড়িতে চকলেট ও বিস্কুট নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করার জন্য নির্দেশ দেন। এঘটনার সত্যতাও স্বীকার করেন তিনি।

ফয়সাল আহমেদ/কেএসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]