ইউএনওকে ধমকালেন বরিশাল সিটি মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২২

ফেসবুক লাইভে ভোটকেন্দ্রের ভিডিও প্রচার ও দলবেধে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় কেন্দ্রে দায়িত্বরত বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামানের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর জিলা স্কুল ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে নগরীর জিলা স্কুল ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সকাল ৯টার দিকে বরিশাল সিটি করপোরশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ভোট দিতে নগরীর জিলা স্কুল ভোটকেন্দ্রে যান। এ সময় তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন ছিলেন। তার সঙ্গে থাকা একজন ফেসবুক লাইভে ভোটকেন্দ্রের ভিডিও প্রচার করছিলেন।

কেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রথমে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ভোটার ছাড়া অন্য কাউকে সঙ্গে না নিয়ে ঢুকতে অনুরোধ করেন। এ সময় মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জানান, ভোটার ছাড়া কেউ তার সঙ্গে নেই। এরপর কেন্দ্রের ১ নম্বর ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে যান। এ সময় কক্ষের সামনে জটলার মতো সৃষ্টি হয়।

দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা একজন একজন করে ভোটকক্ষে প্রবেশের অনুরোধ জানান। পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন বরিশাল সদর ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় তিনি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে ‘প্লিজ স্যার, প্লিজ স্যার’ বলছিলেন ।

এতে বিরক্ত হয়ে মেয়র বলেন, ‘আমি কি ভেতরে ঢুকছি? কেন সিনক্রিয়েট করতেছেন? আপনি কে? আমি কি বাচ্চা শিশু? স্টুপিডের মতো কথা বলেন। যেভাবে ভাবটা করেন তাতে বুঝায় দল বাইধা ঢুকতেছি। ভোটার হইছে ১৭৪ জন। তাহলে সমস্যা কোথায় আপনাদের?’ তখনো ভোটকক্ষের সামনের মেয়রের সঙ্গে থাকা একজন ফেসবুক লাইভে প্রচার করছিলেন।

এ সময় মেয়রের সঙ্গে ছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সিটি প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চরবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মহাতব হোসেন সুরুজ, সদস্য প্রার্থী মোয়াজ্জেম চুন্নুসহ আরও অনেকে।

এ সময় মেয়রের সঙ্গী নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাইয়েদ আহম্মেদ মান্না বলেন, ‘এখানে সবাই ভোটার, আপনি চেনেন না?’

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নবনির্বাচিত বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর এ সময় ইউএনওকে বলেন, ‘উনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র। আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।’ তখন ইউএনও বলেন, ‘চেয়ারম্যান মহোদয়, আমি আপনাদের চিনি। আমি এমন কিছু বলিনি।’

একপর্যায়ে সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ইউএনওকে বলেন, ‘আমি তো ভেতরে ঢুকিনি। ফাইজলামি করেন আপনারা? আপনে কানে কথা শোনেননি?’

তখন ইউএনও মনিরুজ্জমান মেয়রকে বলেন, ‘আপনাকে কিছু বলিনি স্যার।’ এ সময় লাইভ প্রচার করতে থাকা ওই ব্যক্তিকে কেন্দ্রের দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা ভিডিও করতে বারন করেন। এ সময় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিককে বলতে শোনা যায়, কী হয়েছে তা লাইভে সারাদেশের মানুষ দেখেছে।

সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নামের ফেসবুকে একটি আইডি থেকে লাইভে এসে ভিডিওটি প্রচারও করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখানে আমি তেমন কিছুই বলিনি। আর এ বিষয়ে সেভাবে বলার আমার কিছু নেই। আমি কেবল আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলাম।’

বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ফেসবুক লাইভ করা হচ্ছিল। তবে ফেসবুক লাইভ করার কোনো বিধান নেই। এটাই বলার চেষ্টা ছিল।’

বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনার বিষয় জানতে বরিশাল সিটি করপোরশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মোবাইলে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

তবে ঘটনার সময় মেয়রের সঙ্গে থাকা বরিশাল জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে সকাল ৯টায়। সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ভোটার হিসেবে ভোট দিতে ৯টা ৫ মিনিটে কেন্দ্রে যান। তার সঙ্গে যারা ছিলেন সবাই ভোটার। তিনি ভোটারদের নিয়ে কক্ষের সামনে দরজার কাছে দাঁড়িয়েছেন। ভেতরে প্রবেশ করেননি। তখন ইউএনও তাকে প্রবেশ না করার জন্য বারবার বলেন। এর বেশি কিছুই হয়নি বলে দাবি করেন একেএম জাহাঙ্গীর।

নিজস্ব প্রতিবেদক/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।