শিল্পাঞ্চলের মতোই জৌলুসহারা কেসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ড

আলমগীর হান্নান আলমগীর হান্নান খুলনা
প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ২৩ মে ২০২৩

খুলনার শিল্পাঞ্চল খালিশপুর। মাত্র এক দশক আগেও হাজার হাজার শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর ছিল এই অঞ্চলের প্রধান সড়ক বিআইডিসি সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক ধরে চলাচল করেছে শত শত পাটবোঝাই ট্রাক আর জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত ট্যাংক-লরি। পাটকল, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ একাধিক ভারী কলকারখানা রয়েছে এই অঞ্চলে। সেসব কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের চাহিদা মেটাতে সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠে দোকান ও একাধিক বাজার। কিন্তু পাটকল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর থেকে সেই জৌলুস আর নেই শিল্পাঞ্চলের। সবকিছুরই যেন বেহাল দশা।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিল্পাঞ্চলে প্রবেশের অন্যতম পথ এই বিআইডিসি সড়ক। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে থাকছে কাদা-পানি। যা এখন পুরো সড়কটিকে গ্রাস করেছে। হয়ে পড়েছে চলাচলের অনুপযোগী। প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সড়কেও চলতে হয় সতর্কতার সঙ্গে। এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার জ্বালানি নিয়ে শতাধিক ট্যাংক-লরি চলছে ঝুঁকি নিয়ে। এই সড়কটি নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে হলেও পড়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে। এই সড়কটির মতোই বেহাল অবস্থা পুরো ওয়ার্ডের।

জানা যায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সীমানায় ভৈরব নদ, দক্ষিণে বিআইডিসি রোড, পূর্বে গোয়ালপাড়া পাওয়ার হাউসের পশ্চিম সীমানা এবং পশ্চিম দিকে পুরানো যশোর রোড, যমুনা অয়েল ডিপো ও দৌলতপুর এবং খালিশপুর থানার সীমানা। ওয়ার্ডের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার, ভোটার সাড়ে আট হাজারের মতো। ওয়ার্ডের অনেক ভোটার থাকেন ভৈরব নদের অপর প্রান্ত দিঘলিয়া উপজেলার ফরমায়েশখানা ও চন্দনীমহল এলাকায়।

jagonews24

ওয়ার্ডের পদ্মা রোড, মেঘনা রোড, যমুনা রোডসহ বেশিরভাগ সড়কের এখন বেহাল দশা। অবশ্য সড়কগুলোতে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে তা ভীষণ ধীরগতিতে হচ্ছে।

পদ্মা ওয়েল কোম্পানি সড়কের বাসিন্দা কামাল হোসেন, সাইদুল গাজী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ড্রেনের কাজ হয়েছে। এখন কালভার্টের কাজ হবে তারপর রাস্তা হবে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪২ টন ওজনের ৭০-৮০টি তেলবাহী ট্যাংক-লরি এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। চালকরা খুবই ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করেন। আর পথচারীদের ভোগান্তিরতো শেষ নেই।

স্থানীয় মিজানুর রহমান ও আলী আজিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। মশার দাপটে কোথাও এক মিনিটও বসা যায় না। বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নেই।

তারা বলেন, এমনিতেই একটু বৃষ্টি হলে খালিশপুরের অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে যায়। আগে যেসব ড্রেন ছিল তা দিয়ে সেই পানি সরতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো। কিন্তু এখন সড়ক আর ড্রেন দুটোই উঁচু করা হচ্ছে। বৃষ্টির পানি সরার মতো জায়গা নেই। এবার পানিতে ডুবে যাবে এলাকা।

ওয়ার্ডের পদ্মারোডের বাসিন্দা বিলকিস আক্তার বলেন, পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এলাকা ছেড়ে অনেক মানুষ চলে গেছে। যারা এখনো আছে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। রাস্তার ধুলাবালি দিয়েই প্রতিদিন খাবার খেতে হয়। একটা গাড়ি গেলে ধুলায় ভরে যায় চারদিক। এর থেকে কবে যে মুক্তি পাব তা বলতে পারে না কেউ।

এবারের কাউন্সিলর প্রার্থী খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শেখ খালিদ আহমেদ বলেন, ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নেই। রাস্তাঘাটগুলো দীর্ঘদিন যাবত ভাঙা। পানি জমে থাকে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ভালো না। ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না, আবার ড্রেনের ময়লা তুলে রাস্তার ওপর দীর্ঘদিন ফেলা রাখা হয়।

jagonews24

তিনি বলেন, কাউন্সিলরের সঙ্গে যাদের সখ্যতা তাদের বাড়ির ভেতরও পাকা হয়ে গেছে। ওয়ার্ডে একটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। খুলনা বিভাগের বড় তিনটা সরকারি তেলের ডিপো এই ওয়ার্ডে। এখানে ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্টেশন নেই। তবে এসব ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা এলাকার জনপ্রতিনিধি বড় ব্যবসায়ী হওয়ায় তিনি বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকেন। তার সঙ্গে দেখা করাটা কঠিন।

ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. সুলতান মাহামুদ (পিন্টু)। তিনি টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির সমর্থনে জয়ী হন। কিন্তু পরে বিএনপির অন্যান্য কাউন্সিলরের সঙ্গে তিনিও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এবারও তিনি নির্বাচন করছেন।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সুলতান মাহামুদ বলেন, মানুষের পাশে থাকি বলেই তিন তিনবার মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছে। ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সুবিধা অসুবিধায় তাদের কাছে ছুটে যাই। যেসব ভাতা সরকারিভাবে দেওয়া হয় তা সঠিকভাবে বণ্টন করি। যা অনেকের কাছে পছন্দ হয় না। ফলে তারাতো আমার বিরুদ্ধে কথা বলবেই।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জায়গার অভাবে এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) করতে পারিনি। ঘরে ঘরে বর্জ্য নেওয়ার প্রকল্পটা কার্যকর করা যায়নি তবে শুরু হবে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।