জাকাতসহ সব অনুদানই দেয়া যাচ্ছে বিকাশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ০৮ মে ২০২১

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। সামর্থ্যবানদের জাকাত-ফিতরার মাধ্যমে সামর্থ্যহীনদের পাশে দাঁড়ানোও এর মধ্যে অন্যতম। কয়েক বছর ধরে ঈদ মৌসুমে বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে অর্থসহায়তা বিতরণ করছেন বিকাশের অনেক গ্রাহক।

বিকাশের মাধ্যমে অনুদান দেয়াকে সহজ করতে গত বছর অ্যাপে ‘ডোনেশন’ আইকন যুক্ত করে বিকাশ। বিশেষ করে করোনাকালে দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদান সংগ্রহ এবং গ্রাহকদের ঘরে বসেই অনুদান দেয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেয় বিকাশ।

এরপর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ গ্রাহক বিকাশের মাধ্যমে ৫০টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে।

সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুদান সংগ্রহের প্ল্যাটফর্ম হয়ে বিকাশ এখন তাদের সহযোগিতায় পরিণত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এক টাকায় আহার কার্যক্রমের জন্য নন্দিত বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাস বলেন, ‘সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগ্রহণে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। বিকাশ আমাদের কোটি শুভাকাঙ্ক্ষীর আমাদের পাশে দাঁড়ানো ও অনুদান দেয়াকে সহজ করে দিয়েছে। বিকাশের মতো প্রযুক্তি আমাদের এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আরো সাহস জোগায়। সবার অব্যাহত সহযোগিতা আশা রাখি আমরা।’

বর্তমানে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক, সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, এক টাকায় আহার, এসো সবাই, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, মজার ইশকুল, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, সাজিদা ফাউন্ডেশন এবং শক্তি ফাউন্ডেশন ফর ডিজঅ্যাডভান্টেজ ওমেন - এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুদান দিতে পারছেন বিকাশ গ্রাহকরা।

অনুদান দিতে বিকাশ অ্যাপের ‘মোর’ আইকন থেকে ‘ডোনেশন’ নির্বাচন করতে হচ্ছে। যে প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দিতে চান তা নির্বাচন করে অনুদানের পরিমাণ দিয়ে পরের ধাপে নাম, ইমেইল আইডি দিয়ে সাবমিট করতে হচ্ছে। গ্রাহক চাইলে ‘পরিচয় দিতে অনিচ্ছুক’ অপশন নির্বাচন করে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে পারছেন। পরের ধাপে পিন নম্বর দিয়ে অনুদান কার্যক্রম শেষ করার পর একটি প্রাপ্তি স্বীকার বার্তাও স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছেন।

অনুদানের জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে তার পরের স্ক্রিন থেকে জেনে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। আবার অনুদানে অর্থ ব্যয়ের তথ্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হলে শেষ স্ক্রিনে প্রদত্ত ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারছেন আগ্রহী দাতারা।

বিকাশের এই অনুদান প্ল্যাটফর্ম গ্রহীতা-দাতার দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে। বিকাশের মাধ্যমে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে যেকোন সময় কয়েকটি ক্লিকেই জাকাত-ফিতরা অথবা স্বেচ্ছা অনুদান খুব সহজেই পৌঁছে দিতে পারছেন যথার্থ মানুষের কল্যাণে।

অসংখ্য প্রান্তিক মানুষের সারা বছরের অপেক্ষার অবসান হয় জাকাত পেয়ে। কেউ বা জাকাতের অর্থ কাজে লাগিয়ে হয়ে ওঠেন স্বাবলম্বী, কারো নতুন আবাস, নতুন স্বপ্নের শুরু হয় জাকাতের অর্থে, কারো দীর্ঘদিনের লালিত মৌলিক চাহিদা পূরণের স্বপ্নটি সফল হয় এই অর্থেই। অনেক শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করে তোলে জাকাত- বিকাশের মাধ্যমেই জাকাত দিয়ে জীবন পরির্বতনের, সমাজ পরিবর্তনের এমন মহতি উদ্যোগে যুক্ত থাকতে পারেন যেকোনো সার্মথ্যবান গ্রাহক।

ইএআর/এমএইচআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]