ঢাকার প্রথম সিনেমা হলের জীর্ণ-শীর্ণ দশা!

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জবি
প্রকাশিত: ১২:০৬ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২১

ঢাকার প্রথম প্রেক্ষাগৃহ ‘আজাদ সিনেমা হল’-এর এখন বেহাল দশা। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এর ৮৮ বছরের ঐতিহ্য। ‘বি-গ্রেড’ সিনেমায় সয়লাব ও রুচিহীন কর্মকাণ্ডে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে দর্শকরা। বর্তমানে দর্শকদের বদলে জায়গা করে নিয়েছে মাদকসেবী আর অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতরা। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব কর্মকাণ্ড চললেও নেয়া হয় না কার্যকর কোনো ব্যবস্থা।

রায় সাহেব বাজার দিয়ে সদরঘাটের দিকে একটু এগোলেই কোর্টের বিপরীতে দেখা যাবে এই ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহটি। তবে সেই পুরনো জৌলুস এখন আর নেই। এখন আর সেখানে উত্তম-সুচিত্রার চলচ্চিত্র দেখা যায় না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহটির জরাজীর্ণ অবস্থা। হলের দেয়ালগুলো থেকে ইট, সিমেন্ট খসে পড়ছে। হলের ওপরে টিনের চালা, ভারি বৃষ্টি হলেই পানিতে ভেসে যায়। এছাড়া দর্শকদের আকর্ষণ করানোর জন্য আজাদ ম্যানশনের দেয়ালজুড়ে ‘বি গ্রেড’ চলচ্চিত্রের পোস্টারে ছেয়ে আছে। যা সুস্থ সংস্কৃতির ও উন্নত মানসিকতাসম্পন্ন দর্শক টানতে সক্ষম নয়। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দর্শক-শূন্য এই হলটি। আর সিনেমাও দেখানো হচ্ছে কম্পিউটার আর পেনড্রাইভের মাধ্যমে।

তবে আজাদ সিনেমা হলের ম্যানেজার পরিতোষ রায় বলেন, দেশের চলচ্চিত্রের একসময় স্বর্ণযুগ ছিল, তবে সেই স্বর্ণযুগ গত হয়েছে অনেক আগেই। আর নিম্নমানের গল্পের কারণেই দেশীয় চলচ্চিত্রগুলো দর্শক হারিয়েছে। আর দর্শকদের চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কারণেই মুখ থুবড়ে পড়ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলগুলো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অবকাঠামোগত সমস্যা থাকার কারণে আমরা ভালো সিনেমা প্রদর্শনের সুযোগ পাই না। বাংলাদেশ পিকচার এক্সিবিশন কেন্দ্র থেকে আমাদেরকে ভালো সিনেমা দেয়া হয় না। যার কারণে পুরাতন সিনেমাগুলো মডিফাই করে এখানে প্রদর্শন করি। হলের নাজুক পরিবেশ হওয়ার কারণে আমাদের এখানে রুচিসম্মত সিনেমার দর্শকও আসে না।

jagonews24

‘বি গ্রেড’ সিনেমার নোংরা ও অশ্লীল পোস্টারের বিষয়ে পরিতোষ রায় বলেন, এই পোস্টারগুলো সিনেমার ডিস্ট্রিবিউটরদের করা। আমরা পোস্টারিং করি না। তারা যদি এই ধরনের পোস্টার প্রদান করে তাহলে আমাদের কি করার আছে। আমরা না করেছি এই ধরনের পোস্টার দেয়ার জন্য। তবে আমরা সিনেমার ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে কথা বলে পোস্টার পরিবর্তনের বিষয়টা জানাব।

পুরান ঢাকার একসময়কার নামকরা হলগুলোর মধ্যে ‘আজাদ সিনেমা হল’ একটি। একসময় উত্তম-সুচিত্রা জুটির ‘শিল্পী’ এবং ‘পথে হল দেরি’র মত বাংলা সিনেমা এই প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়েছিল। সে সময় পুরান ঢাকাবাসীর বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই হল।

জানা যায়, মুড়াপাড়ার জমিদার মুকুল ব্যানার্জীর নামানুসারে প্রথম দিকে এর নাম ছিল ‘মুকুল টকিজ’। ১৯২৯ সালে ঢাকায় নির্মিত প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র দ্য লাস্ট কিস এই হলে প্রদর্শিত হয়। ঢাকা শহরের রুচিশীল দর্শক থেকে শুরু করে সব ধরনের দর্শকে সরগরম থাকত আজাদ সিনেমা হল। ১৯৩০ সালে এই হলে দেখানো হয় চণ্ডীদাস, গোরা, ফেয়ারওয়েল টু আর্মস ইত্যাদি বিখ্যাত সব ছবি। বর্তমানে জীর্ণশীর্ণ হলটি কোনোরকমে টিকে আছে।

রায়হান আহমেদ/এআরএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]