আইজ্যাক লিটন: স্রোতের বিপরীতের গল্প
ছোট-বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। পর্দায় তাকে নানা রকম চরিত্রে দেখা যায়। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে নানাভাবে গড়ে তোলেন। মিশে যান চরিত্রের সঙ্গে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ‘আইজ্যাক নিউটন’ রূপে হাজির হয়েছিলেন তিনি। গোল ফ্রেমের চশমা পরে আপেল হাতে গবেষণা করেছেন।
এবারের ঈদে দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিঞ্জে মুক্তি পেয়েছে সাত পর্বের ওয়েব সিরিজ ‘আইজ্যাক লিটন’। এ সিরিজের ট্যাগলাইন ছিল স্রোতের বিপরীতে হাঁটা মানুষের গল্প। সাত পর্বের ওয়েব সিরিজটিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্রোতের বিপরীতে হাঁটা মানুষ হয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন মোশাররফ করিম। আশরাফুজ্জামানের রচনা ও পরিচালনায় এতে আইজ্যাক লিটন চরিত্রে তিনি অনবদ্য অভিনয় করেছেন। এক মুহূর্তের জন্যও চরিত্র থেকে সরে যাননি।
চন্দ্রাবতী চরিত্রে অর্চিতা স্পর্শীয়ার অভিনয়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার চরিত্র ছিল রহস্যে ঘেরা। মোশাররফ করিম ও স্পর্শীয়া ছাড়াও অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সমু চৌধুরি, সাবেরী আলম, মাজনুন মিজান, আনন্দ খালেদ, কাজী আনিসুল হক বরুন, শফিক খান দিলু, ঝুনা চৌধুরি, নরেশ ভুইয়া, হিমে হাফিজ, নূরে আলম নয়ন, মাহফুজ মুন্না প্রমুখ। সবাই নামের প্রতি সুবিচার করেছেন।
মাজনুন মিজান এবং কাজী আনিসুল হক বরুনের অভিনয় আলাদা করে চোখে পড়েছে। সিরিজের আরেকটি শক্তিশালী দিক ছিল চরিত্র অনুযায়ী কস্টিউম সেলেকশন। নির্বাচিত পোশাক চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে। পর্ব ছয়ে ল্যাবরেটরির একটি দৃশ্যে মোশাররফ করিম এবং স্পর্শীয়ার অভিনয় যে কারো হৃদয়ে স্থান করে নেবে। সুমন হোসেনের সিনেমাটোগ্রাফির দুর্বলতা চোখে পড়েনি দুর্দান্ত সব সংলাপ এবং নিখুঁত চিত্রনাট্যের কারণে।
গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কমেডি, রোম্যান্স, সাসপেন্স, ভায়োলেন্স, থ্রিল সবকিছুর এত চমৎকার সমন্বয় খুব কম সিনেমা বা ওয়েব সিরিজে দেখা যায়। গল্পের প্রেক্ষাপট মহাবিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন। আর গল্পের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে রাতুল নামের এক যুবককে কেন্দ্র করে।
যুবকের বাবা শৈশবে তার নাম রাখেন আইজ্যাক নিউটন। স্কুলের বন্ধুরা উপহাস করে ডাকে লিটন বলে। এভাবে ধীরে ধীরে তার নাম হয়ে যায় আইজ্যাক লিটন। আইজ্যাক লিটন দিনের অধিকাংশ সময় আপেল গাছের নিচে বসে থাকেন। কারণ তার ধারণা কোনো একদিন তার সামনেও আপেল পড়বে এবং তিনিও বানিয়ে ফেলবেন নিউটনের মতো বড় কোনো সূত্র।
তবে গল্পটি এখানেই থেমে নেই। এগিয়ে গেছে আপন মহিমায় এবং চোখের পলকে। এর গল্পে আছে সমাজচিন্তা, রাজনৈতিক ভাবনা এবং বিবেককে জাগ্রত করার মতো কিছু সংলাপ। আইজ্যাক লিটনের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো গল্পের প্রেক্ষাপট, সংলাপ এবং চিত্রনাট্য। ট্যাকনিক্যাললি আরও উন্নত করার সুযোগ ছিল। সাউন্ড ও মিউজিক আরও ভালো হতে পারত। যেহেতু শিল্পে ভালোর শেষ নেই।
তারপরও সবকিছু মিলিয়ে আইজ্যাক লিটন একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন প্যাকেজ। বেশিরভাগ ওয়েব সিরিজেই যখন যৌনতা, গালাগালি, অকারণ ভায়োলেন্স প্রদর্শিত হয়; সেখানে আইজ্যাক লিটন সব শ্রেণির দর্শকের জন্য উপযোগী। পরিবাবের সবাই ড্রয়িংরুমে বসে দেখার মতো একটি রুচিশীল এবং গুণগত মানসম্পন্ন কাজ।
এসইউ/এমএস