ভারত
মূত্রপানে বাধ্য করা হলো দুই কিশোরকে, ঘষে দেওয়া হলো কাঁচামরিচ
ভারতের উত্তর প্রদেশে রাজ্যে ১০ ও ১৫ বছর বয়সী দুই সংখ্যালঘু কিশোরকে জোর করে মূত্রপান করানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের দুজনের মলদ্বারেই ঘষে দেওয়া হয়েছে কাঁচামরিচ। এরই মধ্যে ওই পৈশাচিক নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, শুক্রবার (৪ আগস্ট) উত্তর প্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলায় এ ঘটনা ঘটে। জেলার পাথরাবাজার থানার কনকাটি চৌরাহার নিকটবর্তী আরশান চিকেন শপ নামে একটি দোকানের সামনে প্রকাশ্যে ওই দুই কিশোরের ওপর নির্যাতন চালায় একদল লোক।
আরও পড়ুন: কৃষিমন্ত্রীর সংবাদে নায়ক রাজ্জাকের ছবি, ক্ষমা চাইলো আনন্দবাজার
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দোকান থেকে টাকা চুরির অভিযোগে আটক করা দুই কিশোরকে প্রথমে কাঁচামরিচ খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বোতলভর্তি প্রস্রাবও জোর করে গেলানো হচ্ছে তাদের। সামনে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা একদল লোক কিশোর দুটিকে গালিগালাজ করছে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পিঠে হাত বাঁধা অবস্থায় ওই কিশোররা মাটিতে পড়ে রয়েছে। একপর্যায়ে একদল লোক পরনের কাপড় খুলে নিয়ে দুই কিশোরের মলদ্বারে কাঁচা মরিচ ঘষে দিচ্ছে। সেসময় যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি ওই কিশোররা। অত্যাচারের একপর্যায়ে দুই কিশোরের শরীরে হলুদ রঙের একটি তরল ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে ঢুকিয়ে দেয় নির্যাতনকারীরা।
আরও পড়ুন: রাত ২টায় মাতাল হয়ে অফিসের বসকে মেসেজ, ভাইরাল পোস্ট
এদিকে, প্রাথমিকভাবে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও, ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করেছে পুলিশ ও তাদের মধ্য থেকে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুজন এখনো পলাতক রয়েছেন। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
আরও পড়ুন: হিজাবপরা ছাত্রীদের স্কুলে ঢুকতে বাধা, প্রতিবাদ করায় ছাত্রকে মারধর
এদিকে, একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের হিমাচল প্রদেশের রোহরু এলাকায়। সেখানে ১৫ বছরের এক কিশোরকে চিপস চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে বেধড়কর মারধর করা হয়। শুধু মারধরেই থেমে থাকেনি স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই কিশোরকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় প্যারাড পর্যন্ত করানো হয়। ওই বালক সেখানকার এক নেপালি পরিবারের সন্তান। ঘটনা জানতে পেরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
এসএএইচ