নির্বাচনি প্রচারে নারীদের ওপর হামলায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নোটিশ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি অ্যাডভোকেট উম্মা সালমার পক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন। নির্বাচনি প্রচারণাকালে নারীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন নিজেই।
নোটিশে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে, যা সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকেরা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। কিন্তু ওই সময় থেকে বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারীরা সংগঠিত হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়, এসব হামলা শুধু ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং সংবিধানের ২৮, ৩২, ৩৬, ৩৭, ৩৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকার, যেমন লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য থেকে মুক্তি, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা, চলাচল, সমাবেশ, সংগঠন ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।
সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো প্রতিরোধমূলক, প্রতিকারমূলক কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি, যা গুরুতর দায়িত্বহীনতার শামিল।
নোটিশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
এফএইচ/এমএএইচ/