ড. ইউনূসের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ২০ জুলাই ২০২২
ড. মুহাম্মদ ইউনূস/ফাইল ছবি

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে জারি করা রুল দ্রুত শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার (২০ জুলাই) দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেন। এর আগে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিনি এ বিষয়ে আবেদন দাখিল করেন।

এ বিষয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি জাহিদ সারোয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি হতে পারে বলে জানান আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

তিনি বলেন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের যে মামলাটি হাইকোর্ট স্থগিত করেছিলেন, সেটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট সেটি হাইকোর্টকে দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখানে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে যিনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন, সেই রুল চলমান থাকা অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে কলকারখানার পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

‘সে কারণে আমি আজ আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিলের অনুমতি চেয়েছি। আর আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। যেহেতু আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে দুই মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য, সেই আদেশের কপিটি আমরা আদালতের কাছে দাখিল করলাম। তখন আদালত বললো আপনাকে অনুমতি দেওয়া হলো অ্যাফিডেফিড করার জন্য। মামলাটি কালকে (২১ জুলাই) তালিকায় থাকবে বলে আদালত জানান।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে জারি করা রুল দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে গত ৭ জুন নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করে ঢাকার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে এ মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান। পরে মামলার বিবাদীদের হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান। এই তিন আসামিও পৃথকভাবে মামলার আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের কিছু লঙ্ঘন দেখতে পান। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি। শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এছাড়া কোম্পানির লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা তাদের দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে এ মামলা করা হয়।

এ মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. ইউনূস। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগ সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে দুই মাসের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে আদেশ দেন। সেটিই শুনানি করতে আজকে আবেদন করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

এফএইচ/ইএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।