ইয়ো-ইয়ো ডায়েটে অনাস্থা দীপিকার, কেন ঝুঁকিপূর্ণ এই পদ্ধতি
চটজলদি ওজন কমানো বা হঠাৎ শরীরের গড়ন বদল এই প্রবণতাই আজকের ‘ইয়ো-ইয়ো ডায়েট’-এর মূল কথা। সামনে বিয়ে, বিশেষ অনুষ্ঠান বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য সব ক্ষেত্রেই অল্প সময়ে ফল পাওয়ার তাগিদে নতুন প্রজন্ম ঝুঁকছে কড়া ডায়েট আর অতিরিক্ত শরীরচর্চার দিকে। কিন্তু এই প্রবণতায় একেবারেই আস্থা নেই বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের।
বর্তমানে ‘ইয়ো-ইয়ো ডায়েট’ বলতে বোঝানো হয় এমন খাদ্যাভ্যাস, যেখানে হঠাৎ করে খাবারের পরিমাণ বা ধরনে বড়সড় পরিবর্তন এনে অল্প সময়ে ওজন কমানো বা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কখনও প্রায় না খেয়ে থাকা, কখনও আবার অতিরিক্ত প্রোটিন বা নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর করাই এই ডায়েটের বৈশিষ্ট্য। ফল মিললেও তা স্থায়ী হয় না, বরং কিছুদিন পর আবার আগের ওজন ফিরে আসে।

দীপিকা বরাবরই শর্টকাটে বিশ্বাসী নন। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, চরিত্রের প্রয়োজনে ওজনের ওঠানামা হলেও ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ তার পছন্দ নয়। তার মতে, খুব কম সময়ে মেদ ঝরানো বা হঠাৎ ওজন বাড়ানো শরীরের জন্য ভালো নয়। ফিটনেস মানে শুধু দেখতে ছিপছিপে হওয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা।
ইয়ো-ইয়ো ডায়েট কেন ক্ষতিকর
পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধরনের ডায়েটে শরীরে একাধিক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। হঠাৎ কম খেলে পেশিক্ষয় শুরু হয়, বিপাকক্রিয়ার গতি কমে যায় এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার দ্রুত ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করলে পেশির বদলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমে। এর ফলে ফ্যাটি লিভারসহ নানা জটিল সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।
অনেক পুষ্টিবিদই বারবার সতর্ক করেছেন, ওজন কমানো হোক বা বাড়ানো, কোনও ক্ষেত্রেই তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। ধীরে, নিয়ম মেনে এগোনোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

তা হলে সঠিক পথ কোনটি?
চল্লিশের দোরগোড়ায় পৌঁছেও দীপিকার ফিটনেস অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। তার মতে, চেহারার খুঁটিনাটির চেয়ে শরীরের সুস্থতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি বিশ্বাস করেন সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চায়। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সব ধরনের পুষ্টির ভারসাম্য থাকা জরুরি।
- কার্বোহাইড্রেট: শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। ভাত, ওটস, ফল ও সবজি থেকে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়।
- প্রোটিন: পেশি গঠনে ও শরীর সবল রাখতে সাহায্য করে। ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, সয়াবিন, পনির বা টোফু ভালো উৎস।
- স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: ত্বকের জেল্লা বজায় রাখতে ও ভিটামিন শোষণে সহায়ক। বাদাম ও বিভিন্ন বীজে এই ফ্যাট থাকে।
- ভিটামিন ও খনিজ: শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয়। ফল, সবজি, মাছ ও মাংস থেকে এগুলো মেলে।
- পানি: শরীর সুস্থ রাখতে সবচেয়ে জরুরি উপাদান। দিনে অন্তত ৭-৮ গ্লাস পানি পান করা দরকার।

দীপিকার বিশ্বাস, নিয়ম মেনে খাওয়া আর নিয়মিত শরীরচর্চাই দীর্ঘদিন সুস্থ ও ফিট থাকার চাবিকাঠি। ‘সাইজ জিরো’ হওয়া লক্ষ্য হতে পারে, তবে তা কখনওই শরীরের ক্ষতি করে নয়; এই বার্তাই বারবার তুলে ধরেন তিনি।
জেএস/