চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে: রাষ্ট্রপতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৫ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৬
জাতীয় সংসদে ভাষণ দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে এক পর্যায়ে এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক-সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসী তথা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণতন্ত্রের পক্ষে রাজনৈতিক দলসহ সবার সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি পরম করুণাময় আল্লাহ তা’আলাকে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে স্মরণ করছি বীরঙ্গনা মা-বোনদের এবং আমাদের শহীদদের যারা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সব নেতার অবদানও আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। যিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে প্রতিবার সামনের কাতারে থেকে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়। আমি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। যাদের অসামান্য ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে, সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। নারী-পুরুষ-শিশুসহ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। পাঁচ শতাধিক মানুষ চোখ হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেছেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ যাবতকালে দেশের ইতিহাসের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলমান। ১৩৭ জন গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। আহতদের ১২ হাজার ৪৩টি স্বাস্থ্যকার্ড দেওয়া হয়েছে।

এমওএস/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।