যে দেশ স্বাধীন করেছি সে দেশে বক্সে ফেরত যেতে হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ০৭ নভেম্বর ২০১৯

অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি গত পাঁচ বছর তার সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। উনি প্রায়শই একটা কথা বলতেন, যে দেশ নিজের হাতে স্বাধীন করেছি সে দেশে কি আমাকে বাক্সে করে ফেরত যেতে হবে?’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাদেক হোসেন খোকার প্রথম নামাজে জানাজা পর্বে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জানাজায় উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকা আপনাদের অতি পরিচিত। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে গত ৪ নভেম্বর নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। আজকে আমার প্রথমবার সুযোগ হয়েছে সংসদ চত্বরে পা রাখার। আমি এর আগে কোনো দিনও এখানে আসিনি। যদিও আমার বাবা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবার জানাজা। এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, বাবা আমার সাথে নেই। তবে উনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। এখানে আগত সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যসহ অসংখ্য গণ্যমান্য ব্যক্তি আছেন, আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আপনারা উনার জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। তার সর্বজনীন যে একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সেটা আপনারা আবার প্রমাণ করে দিয়েছেন।’

খোকার ছেলে বলেন, ‘আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন। আপনারা সবাই দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে চলেছেন, যদি কোনো ভুল করে থাকেন আমি উনার পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কারও যদি কোনো দেনা-পাওনা থাকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘উনি বাংলাদেশে এসেছেন ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে। উনার পাসপোর্ট আবেদন করা হয়েছিল ২০১৭ সালে। পরবর্তীতে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় উনি শেষ দিকে অনেক আক্ষেপ করেছেন। বলেছিলেন, যে দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন করলাম সেই দেশের পাসপোর্ট আমি পেলাম না!’

তিনি আরও বলেন, ‘উনার বুকের চাপা কষ্ট রয়ে গেল যে, উনি শেষ নিঃশ্বাস এই বাংলাদেশের মাটিতে থেকে ত্যাগ করতে পারলেন না। তারপরও আমি ধন্যবাদ জানাব সরকারকে এবং অন্যান্য যারা সহযোগিতা করেছেন উনার মরদেহ এখানে নিয়ে আসার জন্য। উনার অন্তিম ইচ্ছা, আমি যেদিন পৌঁছায় ওই দিনই উনি শেষ কথা বলতে পেরেছিলেন। তারপর উনি আর কথা বলতে পারেননি। তিনি বলেছিলেন, আমার জানাজা বাংলাদেশে করবা। আমাকে আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দাফন করবা।’

এইউএ/এমএসএইচ/জেআইএম

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।