নির্বাচনের আগেই জাতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৩৩ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ। সেটা কি নিজের ইচ্ছেতে নেই? সরকার ও বিসিবি ভারতে দল পাঠাতে রাজি হয়নি, এখানে বেশ কিছু কারণ আছে। কিছু অনুসঙ্গও আছে। প্রথম হলো, ভারতীয় উগ্রবাদী ধর্মীয় সংগঠনগুলোর অতিমাত্রায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। তাদের বক্তব্যটাকে খুব বড় করে ফলাও করে প্রকাশ করে গরম কড়াইয়ে তেল ঢেলেছে ভারতীয় প্রচার মাধ্যম। সেটা আমলে এনে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজকে আইপিএল না খেলানোর তুঘলকি সিদ্ধান্ত ও ঘোষণায় পুরো পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার রেশ ধরে বাংলাদেশেও বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা বিশেষ আমলে নিয়ে বৈরী পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে দল না পাঠানোয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও সরকারের নির্দেশ মেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ফেলেন। তারপর আইসিসি বারংবার অনুরোধ করলেও বাংলাদেশ সে অবস্থানচ্যুত হয়নি। ভারতের মাটিতে গিয়ে খেলতেও রাজি হয়নি। সব মিলিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।

এখন জাতীয় দল, ভক্তকুল ও মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই হোক, ভারতের উগ্রবাদীদের হুমকি-ধামকির জবাবেই হোক, পরিবেশ পরিস্থিতির কারণেই হোক কিংবা আইসিসির একচোখা নীতির কারণে-বাংলাদেশ এখন টি-টোয়েন্টির বাইরে। তার বদলে স্কটল্যান্ডকে নেওয়াও হয়ে গেছে।

তাহলে বিশ্বকাপের ওই সময়টায় বাংলাদেশ কী করবে? পাকিস্তানের বিপক্ষে মার্চে যে সিরিজ আছে, সেটা এগিয়ে আনবে, নাকি পাকিস্তানের সাথে ফিরতি সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব করবে?

ঢালাও না হোক, বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের কারো কারো মনেও এমন চিন্তাভাবনা উঁকি দিচ্ছে। এমনও শোনা যাচ্ছে, মার্চে পাকিস্তানের সাথে সিরিজ এগিয়ে এনে পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলে তার পরপরই ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচ বাড়িয়ে পাল্টা সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দেবে।

এমন চিন্তাভাবনাটা আরও জোরালো হয়েছে গতরাতে। বুধবার বিসিবির উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সাথে দেখা করতে গেলে ক্রিকেট অনুরাগীরা নড়েচড়ে বসেন। মনে হলো, তেমনটাই বুঝি ঘটতে যাচ্ছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসলে অমন কিছু না। ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছে বিসিবির শীর্ষ কর্তারা পরিষ্কার জানতে চান, নির্বাচনের আগে কিংবা পরপরই (রোজার মধ্যেই) সাদা বলে ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনো আয়োজন করা যাবে কিনা, করলে সরকার সে সময় নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা।

বিসিবির নীতি নির্ধারণী কর্তা জাগো নিউজের সাথে একান্ত আলাপে জানান, যেহেতু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না, তাই জাতীয় দলের ও শীর্ষ ক্রিকেটারদের খেলার ভেতরে রাখার চিন্তা থেকেই রোজার মধ্যে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা ভাবা হয়েছে। 

ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, নির্বাচনের আগে ও পরে কোনো ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হলে তাতে কি সরকার পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারবে?

যেহেতু ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা খুব ব্যস্ত থাকবেন নির্বাচন কার্যক্রম নিয়ে। এ সময় মাঠে খেলা আয়োজন করলে পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী পাওয়া যাবে কিনা, সেটাই ছিল প্রশ্ন।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, সরকার পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে রাজি। তাই বিসিবি একটি জমকালো ক্রিকেট আসর অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছে এবং অচিরেই তা ঘোষণা আকারে আসছে।

কেউ কেউ আবার এটাকে সিসিডিএম টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ কাপ বলে ভাববেন না। মূলত জাতীয় দলের সব ক্রিকেটারদের রেখে একটা বড়সড় আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে।

এআরবি/এমএমআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।