দল ছন্দে আছে, তবে নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সই শেষ কথা : ফস্টার

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

রবিন লিগে দুইবার আর কোয়ালিফায়ার ওয়ানে একবার। এবারের বিপিএলে মোট তিনবার দেখা হয়েছে খুলনা টাইগার্স আর রাজশাহী রয়্যালসের।

এর মধ্যে গত ১৩ জানুয়ারি প্রথম কোয়ালিফায়ারে আন্দ্রে রাসেলের রাজশাহীকে ২৭ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে মুশফিকের খুলনা।

সেটাই একমাত্র জয় নয়। দুই পর্বে রবিন লিগেও একবার রাজশাহীকে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্স। ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় ৫ উইকেটে জয়ী হয় খুলনা। হাই স্কোরিং ম্যাচে শোয়েব মালিকের ৫০ বলে ৮৭ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ১৮৯ রানের বড়সড় স্কোর গড়েও শেষ রক্ষা হয়নি রাজশাহীর। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের দুর্দান্ত ব্যাটিং শৈলিতে (৫১ বলে ৯৬) ৫ উইকেট হাতে রেখে ২ বল আগেই সে রান টপকে যায় খুলনা।

আর রবিন লিগের ফিরতি ম্যাচটিতে শুধু অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেলের একার নৈপুণ্যে জয়ী হয়েছে রাজশাহী। একই আসরে তিনবারের মোকাবিলায় দুইবার জেতা মানেই বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও আস্থা। কথাবার্তায় পরিষ্কার, খুলনার ক্রিকেটাররা অনেক বেশি চাঙ্গা।

কোচ জেমস ফস্টারের কথায়ও সেই চাঙ্গাভাব। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে শেরে বাংলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে ফাইনাল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে এ ইংলিশ কোচকে।

শেরে বাংলায় বিকেলে বিপিএলের ট্রফি উন্মোচন পর্বে রাজশাহী অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেলের সাথে হাসি মুখে ফটোশ্যুটে অংশ নিলেও ফাইনালের আগে মিডিয়ার সাথে কথা বলেননি মুশফিকুর রহীম। বিপিএলে প্রথমবার ফাইনাল খেলছেন দেশসেরা ব্যাটসম্যান, তার নেতৃত্বেই দল এতদূর এসেছে। খুলনা অধিনায়কের ফুরফুরে মেজাজেই তো থাকার কথা। মিডিয়ার সাথে কথা বলার উপযুক্ত পরিবেশ। কিন্তু মুশফিক এলেন না কথা বলতে।

তার বদলে দলের প্রতিনিধি হয়ে এলেন খুলনা টাইগার্সের বিদেশি কোচ জেমস ফস্টার। নিজের দল নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যথেষ্ঠ আত্মবিশ্বাসী। আমরা শেষ চার খেলায় জিতেছি। যার প্রায় সবকটাই আমাদের জন্য নকআউট ম্যাচের মতই ছিল। কাজেই আমরা চমৎকার ছন্দ ও রয়ে আছি।’

তাই বলে আত্মতুষ্টির ঢেঁকুর তুলতে নারাজ খুলনার ইংলিশ কোচ। তাইতো মুখে এমন সাবধানবাণী, ‘তারপরও নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সটাই শেষ কথা।’

রাজশাহীর সাথে কোয়ালিফায়ার ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আসলে ঐ ম্যাচে আমরা জিতলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ যতটা একপেশে হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ক্লোজ ছিল আসলে। শেষ দিকে গিয়ে আমাদের দিকে হেলে পড়ে ম্যাচটি।’

ফাইনালে সেই রাজশাহীকে সমীহর চোখে দেখছেন জেমস ফস্টার। তার মূল্যায়ন, ‘রাজশাহী বেশ সিরিয়াস ও কঠিন দল। প্রতিপক্ষ হিসেবে বেশ শক্ত। আমাদের অবশ্যই খুব ভালো খেলতে হবে। যতটা ভালো খেলা যায়, তা খেলতে আমরাও প্রস্তুত।’

নিজের দল নিয়ে আশাটা আগে থেকেই ছিল, এতদিনে জানালেন খুলনা কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা ফাইনাল খেলবো এমন আশা ছিল শতভাগ। আমাদের দলের ব্যালেন্সটা খুব ভালো। স্কোয়াডে বেশ কজন সতিকার ম্যাচ উইনার আছে। ব্যাটিং ও বোলিংয়ের গভীরতাও প্রচুর।’

তবে খুলনা কোচ একবারের জন্য নিজ দলের কারো নাম উল্লেখ করেননি। এমন কথা বলেননি যে, অমুক আমার চালিকাশক্তি। আমরা তার দিকে তাকিয়ে আছি।

প্রশ্ন উঠেছিল-মুশফিক আর রাইলি রুশো তো দলকে টেনে তুলেছেন। ফাইনালে কি বাকিদের এগিয়ে আসা জরুরি নয়? আপনি কি অন্যদের কাছ থেকেও ফাইনালে মুশফিক-রুশোর মত পারফরম্যান্স চান?

এমন প্রশ্নর জবাবে খুলনা কোচ বলেন, ‘আমি ঠিক প্রশ্নটা বুঝলাম না। আমার তো মনে হয় আমাদের ব্যাটিং লাইন আপ জ্বলে উঠেছে এবং উপরের ৭ ব্যাটসম্যান পুরো আসরে দলের সাফল্যে অবদান রেখেছে। আমাদের ব্যাটিং আর বোলিং দুই-ই ভালো।’

এমনকি মিরাজ আর শান্তর উদ্বোধনী জুটি নিয়েও তেমন উচ্ছ্বসিত নন খুলনা কোচ। মানছেন তারা ভালো খেলছেন, দলের সাফল্যে অবদান রাখছেন। তাই বলে তাদের দুজনকেই আলাদা করে কৃতিত্ব দিতে রাজি নন ফস্টার। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, মিরাজ-শান্ত ভালো খেলে দলে কার্যকর অবদান রেখেছে। তবে শুধু তারা নয়, আমার মনে হয় সবাই মিলে পারফরম করেই দলকে এতদূর নিয়ে এসেছে।’

আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা নেই খুলনার!

কোয়ালিফায়ার টু‘তে একাই ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন রাজশাহী অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। ফাইনালে তাকে নিয়ে কোনো পৃথক পরিকল্পনা বা গেম প্ল্যান আছে কি না? এমন প্রশ্নে খুলনা কোচ ফস্টার বলেন, ‘নাহ, কাউকে নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা বা গেম প্ল্যান নেই আমাদের। আমরা প্রতিপক্ষের সবাইকে নিয়েই ভাবছি। আমাদের সব ম্যাচের গেম প্ল্যানেই প্রতিপক্ষের ১১ জন ক্রিকেটার থাকে। নির্দিষ্ট কেউ নয়।’

এমনকি উইকেট ও টস নিয়েও মাথাব্যথা নেই ফস্টারের। তার কথা, ‘উইকেট ও টস ফ্যাক্টর না। আসল ও শেষ কথা হলো ভালো খেলা, স্মার্ট ক্রিকেট উপহার দেয়া। ফাইনালে উঠে আসা দুই দল শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। আর দুই দলের বোলিংটাও বেশ ধারালো।’

এআরবি/এমএমআর/পিআর