জাতীয় দল শ্রীলঙ্কা গেলে ঢাকা লিগের কী হবে?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৪২ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২০

‘এবার কি আর প্রিমিয়ার লিগ হবে? ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৫০ ওভারের আসরটি কি ২০২০ সালে আর মাঠে গড়াবে?’- এমন প্রশ্নের বিপরীতে নির্বাক সিসিডিএমের সদস্য সচিব আলী হোসেন, মুখে কোন কথা নেই। ঢাকাই ক্রিকেটের আয়োজক, ব্যবস্থাপক সংগঠনটির সদস্য সচিব কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

শুধু সিসিডিএম সদস্য সচিব আলী হোসেন কেন? এ মুহূর্তে বিসিবির শীর্ষকর্তা থেকে শুরু করে একজন ক্লাবকর্তার পক্ষেও এমন প্রশ্নের সদুত্তর দেয়া কঠিন। সব মিলে যে অবস্থা, তাতে করে এবার আর প্রিমিয়ার লিগ হওয়া সত্যিই কঠিন। লিগ মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম।

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে হিসেব করলে ২০২০ সালের এখনও বেশ বাকি আছে। এত আগে উপসংহারে যাওয়া কি ঠিক হবে? কেউ কেউ এমন প্রশ্ন করতেই পারেন। তবে আসল সত্য হলো, করোনার কারণে দেশে এখন লিগ আয়োজনের মত অবস্থা নেই। কবে হবে?- তাও বলা কঠিন।

তারপরও ধরে নেয়া যায় করোনার প্রকোপ কমে দেশের মাটিতে ক্রিকেট মাঠে গড়াতে আরও অন্তত দুই মাস লেগে যেতে পারে। মানে অক্টোবরের আগে কিছুতেই সম্ভব নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রিমিয়ার লিগ অনুষ্ঠান বহু দূরে, জাতীয় দলের শ্রীলঙ্কা সফরের প্র্যাকটিস শুরু করতেও রাজ্যের দ্বিধাসংশয় কাজ করছে। বিসিবির শীর্ষকর্তারা এখন পর্যন্ত বলতে পারছেন না, ঠিক কবে শুরু শ্রীলঙ্কা সফরের প্রস্তুতি।

এখন না হয় সম্ভব না, দু মাস পর অক্টোবরে অবস্থার উন্নতি ঘটলে, তখন তো লিগ শুরু করা যেতে পারে- অনেকেই তা বলাবলি করছেন। কিন্তু কঠিন সত্য হলো অক্টোবরেও প্রিমিয়ার লিগ শুরুর সম্ভাবনা খুব কম। কারণ অক্টোবরের পুরোটা এমনকি নভেম্বরের মাঝামাঝি অবধি জাতীয় দল শ্রীলঙ্কায় ব্যস্ত সময় কাটাবে। সফরসূচি চূড়ান্ত না হলেও, বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসের ২০-২২ তারিখ নাগাদ জাতীয় দল যাবে শ্রীলঙ্কা। আর প্রথম টেস্ট শুরুর সম্ভাব্য দিন ২৪ অক্টোবর। তিন টেস্টের পর আবার যদি তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়, তাহলে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যাবে।

জাতীয় দলের শ্রীলঙ্কা সফরের সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর সম্পর্ক কী? সেখানে বড় জোর ২২-২৩ জন ক্রিকেটার ব্যস্ত থাকবেন। ১২ দলেতো আরও অনেক ক্রিকেটার আছেন। সে সংখ্যা কম করে হলেও ১৩০+। তাদের নিয়ে কি লিগ চালানো সম্ভব নয়?

এমন প্রশ্ন যাদের, তাদের জন্য বলা, এবারের প্রেক্ষাপটে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছাড়া লিগ শুরু কঠিন। কারণ দলগুলো ধরেই নিয়েছিল এবার পুরো লিগ জাতীয় ক্রিকেটারদের পাওয়া যাবে। তাই কিছু নির্দিষ্টসংখ্যক ক্রিকেটারকে নিশ্চিত ধরেই দল সাজিয়েছে, কোন বিকল্প রাখেনি। কিন্তু করোনা এসে সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। কয়েকটি দলের এমন অবস্থা যে, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছাড়া একাদশ সাজানোই কঠিন।

চ্যাম্পিয়ন আবাহনীসহ অন্তত তিনটি দল আছে এ তালিকায়। জাতীয় দল শ্রীলঙ্কা থাকা অবস্থায় লিগ হলে সেই সময় আবাহনী, গাজী গ্রুপ আর প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে ১১ জন মাঠে নামানোই মুশকিল হয়ে পড়বে।

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘জাতীয় দল শ্রীলঙ্কা সফরে থাকা অবস্থায় লিগ হলে আবাহনীর পক্ষে কিছুতেই খেলা সম্ভব না। অন্তত আট-নয়জন জাতীয় ক্রিকেটার (লিটন দাস, নাইম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহীম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন, মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ইসলাম, পেসার মেহেদি রানা) আছে আবাহনীতে। যাদের ছাড়া ১১ জন সাজানো তথা কিছুতেই দল মাঠে নামাতে পারব না। তাই আমরা জাতীয় দল বাইরে থাকা অবস্থায় লিগ খেলতে পারব না, খেলা সম্ভব না।’

ঠিক একই কথা গাজী গ্রুপ কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীনেরও। তার দলের তিন ব্যাটিং স্তম্ভ হলেন জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক আর ড্যাশিং ওপেনার সৌম্য সরকার। গাজী গ্রুপের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বলেই ফেলেছেন, ‘যেহেতু দল বদলের সময় কারোই মাথায় ছিল না এমন কিছু ঘটতে পারে। তাই কোন দল বিকল্প রাখেনি, আমাদেরও নেই। ওদের তিনজনকে ছাড়া আমাদের পক্ষে একাদশ সাজানো সম্ভব নয়, মাঠে নামার প্রশ্নই আসে না।’

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষেও মাঠে নামা মুশকিল। দলে আছেন তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ মিঠুন, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও নাঈম হাসান। দুই ফরম্যাট মিলে ঐ পাঁচজনের শ্রীলঙ্কা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য প্রাইম ব্যাংকের কোচ সারোয়ার ইমরানের দাবি, ঐ শীর্ষ তারকাদের ছাড়াও তারা খেলতে পারবেন।

কোচ রাজি হলেও প্রাইম ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট শেষপর্যন্ত ঐ শীর্ষ তারকা ও মূল চালিকাশক্তি ছাড়া দল মাঠে নামাতে রাজি হবেন কি না? তা নিয়ে আছে বড় প্রশ্ন। আবাহনী, গাজী গ্রুপ আর প্রাইম ব্যাংকের মত দল জাতীয় ক্রিকেটারদের সার্ভিস নিশ্চিত ভেবে তাদের মোটা অংকের অর্থ দিয়ে অন্তত দুই-আড়াই কোটি টাকা খরচ করে দল সাজিয়েছে। এখন ঐ সব তারকা ও নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারদের বাইরে রেখে তারা কি লিগ খেলতে রাজি হবে?

তাই বলাই যায়, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় দল শ্রীলঙ্কা সফরে ব্যস্ত থাকলে এবছর আর প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়াবে না। হয়তো কেউ কেউ ডিসেম্বর-জানুয়ারির কথা বলবেন। তখন চলে আসবে বিপিএল। এই টুর্নামেন্ট বাদ দিয়ে কি প্রিমিয়ার লিগ চালাবে বিসিবি? উত্তর দেবে সময়।

এআরবি/এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]