ইতালিকে হারিয়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি স্পেন
দুর্দান্ত লড়াই হলো নেদারল্যান্ডসের ইনসেদের ডি গ্রলসে ভেস্তে স্টেডিয়ামে। ম্যাচের শুরুতে গোল দিয়ে একদলের এগিয়ে যাওয়া, এর খানিক পরই পাল্টা আক্রমণে সেই গোল পরিশোধ এবং দীর্ঘ সময় ধরে আর কারা গোল না পাওয়া। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ানির খানিক আগ মুহূর্তে গোল করে এক দলের বিজয়- শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সর্বোচ্চ উত্তেজনা, সবকিছুই ছিল ইউরোপের অন্যতম সেরা দুটি দেশ ইতালি এবং স্পেনের মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচটিতে।
বৃহস্পতিবার রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে উত্তেজনাকর ফুটবলের সবকিছুই প্রদর্শিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইতালিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। আগামী রোববার নেশন্স লিগের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে লুইস ডি লা ফুয়েন্তের স্পেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতালি মুখোমুখি হবে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডসের।
দুই বছর আগেও ফাইনালে উঠেছিলো স্পেন। সেবার তখনকার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিলো তারা। কিন্তু ফাইনালে আর ফ্রান্সের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। স্প্যানিশদের ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে নিয়েছিলো ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরুতেই লিড নিয়ে নেয় স্পেন, ৩য় মিনিটের সময় ইয়েরেমি পিনোর দারুণ ফিনিশিংয়ে। অভিষিক্ত রবিন লে নরম্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রন নিয়ে পাস দেন পিনোকে। ম্যাচের ১১তম মিনিটেই ইতালিকে সমতায় ফেরান সিরো ইমোবিলে। পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন তিনি। প্রায় দুই বছর পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক গোল করলেন ইমোবিলে।
১১ মিনিটের মধ্যে ম্যাচের অবস্থা ১-১ গোলে সমতা। কিন্তু এরপর প্রথমার্ধ শেষ, দ্বিতীয়ার্ধও শেষ হওয়ার পথে প্রায়; কিন্তু গোলের দেখা নেই। অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো সবাই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর সে দিকে যেতে দিলেন না হোসেলু। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল এগিয়ে দেন রদ্রি। সেই বলকে ইতালির জালে পাঠিয়ে দেন হোসেলু।
ম্যাচ শেষে হোসেলু বলেন, ‘আমাদের দল দুর্দান্ত খেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় আমরা প্রভাব বিস্তার করে খেলেছি। শুধু গোল পেতে কষ্ট হয়েছে।’
নিজের গোলের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রদ্রির কাছ থেকে বল পাওয়ার পর আমি ছিলাম একা। এটা বুঝতে পেরেছিলাম এবং আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমি অফসাইড হয়ে যাইনি। আমি নিজের গোলে খুবই খুশি। কারণ, আমরা এখন ফাইনালে। এখন আমাদের সামনে শিরোপা জয়ের দারুণ হাতছানি।’
আইএইচএস/এমএস