পারল না শেখ জামাল
৫ মিনিটেই যেন সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের। একের পিঠে ২ লিখে দিয়ে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান (২-০)। মাত্র ৫ মিনিটেই এই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে অতিথিরা। তাতেই বাজিমাত সফরকারীদের। ৯০ প্লাস মিনিটের ম্যাচে শেখ জামালের যথেষ্ট সুযোগ ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর, কিন্তু গোলবারের নিখুঁত নিশানা খুঁজে পাননি জামালের ফুটবলাররা। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম শীর্ষ ক্লাব বুসান আই পার্কের সাথে সমানতালে লড়েও শেষ রক্ষা হয়নি।
একটি ঘূর্ণিঝড়ে এসেই যেন সব তাল-‘গোল’ পাকিয়ে দিয়েছে। বুসানের প্রথম ৫ মিনিটের এই ঝড়ে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে স্বাগতিক জামাল। কখনো সমানে সমান; কখনো ভাল খেলেও বুসান আই পার্কের শুরুর ২ গোল আর পরিশোধ করতে পারেনি মারুফুল হকের শিষ্যরা।
এক মিনিটও হয়নি। আচানক এক আক্রমণ শাণিয়েছে বুসান আই পার্ক। দলের ইয়ংগির একটি পাস ডি বক্সে পেয়েই শেখ জামালের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে গোল করেছে কিম জিনউ (১-০)। এর ৫ মিনিটের হেরফের হয়নি। আবার জামালের দুর্গে হানা দিয়েছে কোরিয়ান ফুটবলাররা। গোছানো আক্রমণ। তা থেকে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেছেন ইউন ডংমিন (২-০)।
শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সঙ্গে বুসানে আই পার্কের ব্যবধান জানাই ছিল। তবে শেখ জামালের সাম্প্রতিক পারফর্ম আলোর বাতিঘর হয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। গোলের ব্যবধানের হারলেও কিন্তু বুসানের সামনে শেখ জামালকে অসহায় মনে হয়নি। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ অবধি আক্রমণ কম করেনি শেখ জামাল। দুর্ভাগ্য শেখ জামালের কোনো আক্রমণই কাজে লাগেনি।
প্রথমার্ধে বেশ ক’টি হাফচান্স পেয়েছিল শেখ জামাল। আর এগিয়ে থেকে প্রতিপক্ষরাও একটু হালকা মেজাজে নিয়ন্ত্রণ রেখে ম্যাচ খেলেছে। ৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়েও ৮ মিনিটে শেখ জামালের এমেকা ডার্লিংটন বল নিয়ে ডি-বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। বুসানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের বাঁধার মুখে তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ১৬ মিনিটে ল্যান্ডিংয়ের দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। ২২ মিনিটে ল্যান্ডিংয়ের কাছ থেকে বল পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি দেশসেরা স্ট্রাইকার মামুনুল ইসলাম। তার দূরপাল্লার শট বারের সামান্য পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছে।
২৬ মিনিটে ওয়েডসনের অসাধারণ শটটি বারের সামান্য বাইরের অংশ দিয়ে জাল ছুঁয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭ মিনিটে আবারও সুযোগ মিস করেছেন ডার্লিংটন। ৭৯ মিনিটে দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ে গিয়েও শেষ ছোঁয়াটা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। শেখ জামালের হয়ে শেষ সুযোগ পেয়েছেন সোহেল রানা; কিন্তু সেখানেও বিধিবাম। হয়নি সান্ত্বনার গোলটিও। ম্যাচটি দেখতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীদের সরব উপস্থিতি আবারও প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। ম্যাচের গতি, শৈল্পিক নিপুণতা এবং ক্ষিপ্রতা দর্শকের আন্দোলিত-উদ্বেলিত করেছে।