ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
আইসিটি সেলের পরিচালকের পদত্যাগ, বাড়ছে কাজকর্মে জটিলতা
বেশ কিছুদিন আগেই পদত্যাগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. আহসান-উল-আম্বিয়া। এ ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনিক এমন জটিলতায় আইসিটি সেলের কাজকর্মে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা।
পদত্যাগ করায় পরিচালকও তার দপ্তরে আসছেন না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে দপ্তরটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। আটকে যাচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের অনুমোদন। ফলে জটিলতায় পড়ছেন দপ্তরটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে র্যাগিংয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিটির কাছে সিটিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ। পরে এ বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে থাকা ক্যামেরাগুলোর প্রতি নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
গত ৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সই করা এক চিঠি সূত্রে জানা গেছে, হল কর্তৃপক্ষের ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং কীভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা সিস্টেম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায় সে বিষয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক ড. আম্বিয়াকে দায়িত্ব দিয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করেন উপাচার্য।
একইদিনে অপর একটি চিঠিতে আইসিটি সেলের অধীনে পরিচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা সিস্টেমের পাসওয়ার্ড ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষের চাবি জরুরি ভিত্তিতে প্রক্টরকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, চিঠি পাওয়ার পর আমরা প্রক্টরিয়াল বডি মিটিং করেছিলাম। আমার বডি সিদ্ধান্ত দিলো যে আমরা যেহেতু টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন না তাই আমরা এই জিনিসটা সেভাবে বুঝবো না। টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন কাউকে এটার দায়িত্ব দেওয়া হোক। পরে আমি মিটিংয়ের রেজুলেশনসহ কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছি।
এরপর ১ এপ্রিল রেজিস্ট্রার সই করা এক চিঠিতে আইসিটি সেলের অধীনে পরিচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা সিস্টেমের পাসওয়ার্ড ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষের চাবি দপ্তরটির সিস্টেম এনালিস্ট ড. নাঈম মোরশেদকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। এর তিনদিন পর ৪ এপ্রিল দপ্তরটির পরিচালক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। ঊর্ধ্বতন হয়ে অধস্তনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জের ধরেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
তবে পদত্যাগপত্রে তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়েছেন। এ বিষয়ে ড. আম্বিয়া বলেন, ব্যক্তিগত কারণটা ব্যক্তিগতই থাকুক। পদত্যাগের পর আমি আর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করিনি। ভিসি স্যার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন কি না এ বিষয়ে আমি জানি না। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে আমি এখনো কোনো রিপ্লাই পাইনি।
এদিকে, ড. আম্বিয়ার পদত্যাগপত্র প্রশাসন গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। ভিসি স্যার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করা পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনিই ওই সেলের পরিচালক।
আইসিটি সেলের প্রধান সিস্টেম এনালিস্ট ড. নাঈম মোরশেদ বলেন, পরিচালক না থাকার কারণে বেশকিছু বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। টেকনিক্যাল কাজগুলো আমরা করতে পারলেও কিছু ডকুমেন্টেশনে পরিচালকের সিগনেচার ছাড়া কাজ আটকে যাচ্ছে। ওয়াইফাইসহ অনেকরকম কমপ্লেইন আসছে যেগুলোর আমরা কোনো সদুত্তর দিতে পারছি না। এসব বিষয়ে আমরা একাধিকবার কর্তৃপক্ষের কাছে নোট পাঠিয়েছি। তবে স্যার (ড. আম্বিয়া) অফিসে না এলেও ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজগুলো করছেন। ভর্তি কমিটিতে তিনি সদস্য হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, আইটির বিষয়টা (সিসিটিভি ক্যামেরা) যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের অবহেলার কথা বলা হয়েছিল। অনেকটা অভিমানও হতে পারে। এ বিষয়ে তার সঙ্গে খোলামেলা আলাপ হয়নি। গত মাসে অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হয়নি। এই মুহূর্তে আমাদের সবাই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। আমরা অচিরেই বিষয়টির সমাধান করবো। আর জরুরি বিষয়গুলো তো আটকে থাকবে না। ভাইস চ্যান্সেলর সেগুলো অনুমোদন দিতে পারেন।
রুমি নোমান/এমআরআর/এএসএম