কান্তজিউ বিগ্রহ যাচ্ছে রাজবাড়িতে


প্রকাশিত: ০৯:৫৬ এএম, ২৪ আগস্ট ২০১৬

রাজ পরিবারের প্রথা অনুযায়ী দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তনগর মন্দির থেকে শ্রী শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহ নৌপথে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।

বুধবার রাত ৮টার দিকে বিগ্রহটি দিনাজপুরের রাজবাড়ি কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছাবে। রাত ১২টায় শ্রী শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহ দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরে স্থাপন করা হবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক কান্তনগর মন্দির থেকে পূজা অর্চনা শেষে কান্তজিউ বিগ্রহ ঢেপা নদীর কান্তনগর ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিশাল নৌবহর নিয়ে যাত্রা শুরু হয় দিনাজপুর শহরের সাধুঘাটের উদ্দেশে।

Kantaju

দীর্ঘ প্রায় ২৫ কিলোমিটার নদীপথে নৌকাযোগে দিনাজপুর আসার সময় সনাতন ধর্মালম্বী লাখ লাখ ভক্ত নদীর দু’কূলে কান্তজিউ বিগ্রহকে দর্শনের জন্য ভীড় জমাচ্ছেন।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হিন্দু পুণ্যার্থীরা শ্রী শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহকে উৎসর্গ করার জন্য তাদের বাড়ির বিভিন্ন ফল, দুধ ও অন্যান্য অর্ঘ্য নিয়ে আসেন।

Kantaju

এ সময় নদীর দু’কূল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপচে পড়া ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে।

জানা যায়, কান্তনগর ঘাট থেকে দিনাজপুর শহরের সাধুরঘাট পর্যন্ত ৩০টি ঘাটে কান্তজিউ বিগ্রহ বহনকারী নৌকা ভিড়ানো হবে। এ কারণে বিভিন্ন ঘাটে ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ঘাটেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। রাত সাড়ে ৮টায় কান্তজিউ বিগ্রহ সাধুঘাটে এসে পৌঁছালে দিনাজপুর রাজদেবোত্তর এস্টেটের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আনমসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিগ্রহ গ্রহণ করবেন। পরে বিগ্রহটি শহরের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা অর্চনা শেষে রাজবাড়ী কান্তজিউ মন্দিরে স্থাপন করা হবে।

Kantaju

প্রথা অনুযায়ী কান্তজিউ বিগ্রহ ৯ মাস কান্তনগর মন্দিরে এবং তিন মাস দিনাজপুরের শহরের রাজবাড়ীতে অবস্থান করেন। যুগযুগ ধরে এই নিয়ম চলে আসছে। এই তিনমাসে রাজবাড়ীতে প্রতিদিন প্রভাতী নামকীর্ত্তণ ও প্রতি বাংলা মাসের প্রথম শনিবার কমিটির পক্ষ থেকে ভোগের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ভক্ত প্রতিদিন ভোগের ব্যবস্থা করেন।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।