নাসিরনগরে হামলার নেপথ্যের নায়করাই পুলিশের টার্গেট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:২৯ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৬
ফাইল ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফের ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর-বাড়িতে চালানো হামলায় নেতৃত্বদানকারীরাই এখন পুলিশের টার্গেট। যারা হামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন তাদের দিক থেকে সাময়িক দৃষ্টি সরিয়ে পুলিশ এখন হামলায় নেপথ্যের নায়কদেরই খুঁজছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সদর দফতর ও জেলা পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির পাশাপাশি সদর দফতর থেকে পাঠানো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ টিম বর্তমানে নাসিরনগরে অবস্থান করছে। তবে পুলিশের সেই টিম গণমাধ্যমের কাছে কোনো বিষয়েই মুখ খুলছে না।

সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ও গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-প্রমাণসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলা সদর ও হরিপুর ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো হামলায় জড়িতদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ এখন হামলায় অংশগ্রহণকারীদের চেয়ে নেতৃত্বদানকারীদেরই অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হামলায় নেতৃত্বদানকারী সন্দেহে পুলিশ কয়েকজনকে নজরদারিতে রেখেছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের তদন্ত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা এখন হামলায় যারা নেতৃত্বে ছিল তাদের চিহ্নিত করছি। শিগগিরই এই হামলার রহস্য উদঘাটন করা হবে।

এদিকে, হামলার পর এখন অনেকটাই শান্ত নাসিরনগর উপজেলা। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখনো উপজেলা সদরে টহলে রয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে ভয়ভীতি দূর করতে পুলিশ প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উঠোন বৈঠক, সম্প্রীতি সমাবেশ করছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র করে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মামলায় গ্রেফতার হওয়া নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ (৩০) দাসের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নাসিরনগর।

পরদিন (৩০ অক্টোবর) মাইকিং করে সমাবেশ ডাকে দুইটি ইসলামী সংগঠন। সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই দুষ্কৃতিকারীরা নাসিরনগর উপজেলা সদরে তাণ্ডব চালায়। এসময় দুষ্কৃতিকারীরা উপজেলার অন্তত ১০টি মন্দির ও শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

এরপর ৪ নভেম্বর ভোরে ও ১৩ নভেম্বর ভোরে দুষ্কৃতিকারীরা আবারো উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ৬টি ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় পৃথক সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ভিডিও ফুটেজ দেখে ৮৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজিজুল সঞ্চয়/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।