৩ মাস পর শিশুর মরদেহ উত্তোলন


প্রকাশিত: ১১:০৪ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফাহিম (১০) নামের এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠায় আদালতের নির্দেশে দাফনের প্রায় তিন মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার সকালে ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চিত্রা শিকারীর উপস্থিতিতে শিশুটির মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে কবরস্থানের আশপাশে স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ভৈরব শহরের চন্ডিবের এলাকার সায়েম মিয়ার শিশু ছেলে ফাহিম ( ১১) ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ঢাকার শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এরপর শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়। পরে আবার গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে পুনরায় শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ সেপ্টেম্বর শিশুটি হাসপাতালে মারা গেলে তাকে ভৈরবে এনে দাফন করা হয়। কিন্ত এর মধ্য শিশুটির মা আসমা বেগম গত ২৬ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ আদালতে পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন।

এ মামলার অভিযুক্তরা হলেন, শাশুড়ি নাদিরা বেগম, দেবর সোহেল রানা, দেবরের বউ দীপালী বেগম, ননদ নুরজাহান বেগম ও তার ছেলে নাদিম।

বাদী আসমা বেগমের অভিযোগ, তার শিশু ছেলেকে আসামিরা মারধর করায় দ্বিতীয়বার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করলে সে মারা যায়। পরে থানায় অভিযোগ করে প্রতিকার না পাওয়ায় আদালতে মামলা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্তের স্বামী সায়েম মিয়া বলেন, আমার ছেলে অসুস্থ থাকলেও আসামিরা একদিন তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করায় সে অসুস্থ হয়। পরে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করলে সে মারা যায়।

ভৈরব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আবু তাহের জানান, শিশুটি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। তবে কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বলা যাবে।

তিনি বলেন, আদালতের আদেশে শিশুটির মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/জেআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।