লক্ষ্মীপুরে ওয়াক্ফ’র জমি দখলের অভিযোগ
লক্ষ্মীপুর সদরের মহাদেবপুর গ্রামে আলী রাজা পাটওয়ারী ওয়াক্ফ এস্টেট’র প্রায় সাড়ে ৪ একর জমি দখল ও মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ওয়াক্ফ এস্টেট’র কোষাধ্যক্ষ হাজী সাইফ উল্যাসহ কয়েক মুসল্লি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৯০১ সালে মসজিদের জন্য ৫ দশমিক ৪৯ একর জমি দান করেন প্রয়াত আলী রাজা পাটোয়ারী। দান করা জমি ১৯২২ সালে আলী রাজা পাটোয়ারী এস্টেট মসজিদের নামে সিএস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৬০ সালে ওই জমি ওয়াক্ফ তালিকাভুক্ত হয়। ওই সময় আবেদনকারী প্রয়াত আজিজুর রহমানকে মতোয়াল্লি নিয়োগ দেয় ওয়াক্ফ প্রশাসন। যার ইসি নং ১৪১৫১। আজিজুর রহমানের মৃত্যুর পর তার ছেলে আবদুর রবরা ওয়াক্ফ অস্বীকার করে ৪ দশমিক ৪৫ একর জমি জবর দখল করে।
গত ২২ নভেম্বর ওয়াক্ফ প্রশাসন ওই এস্টেট জামে মসজিদের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেয়। ওই কমিটিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি ও স্থানীয় নুর আলম পাটওয়ারীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
৯ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ও লক্ষ্মীপুর ওয়াক্ফ পরিদর্শক আবদুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই সময় সাবেক কমিটির সভাপতি, সম্পাদক ও ক্যাশিয়ারকে নতুন কমিটির কাছে মসজিদের হিসাব প্রদানের নির্দেশ দেন।
কিন্তু হিসাব না দিয়ে, সাবেক কমিটির ক্যাশিয়ার আবদুর রব ও তার ভাই আশ্রাফুর রহমান ও বোরহান উদ্দিন নতুন কার্য বিবরণী (রেজুলেশন) জমা দিয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংকের রাখালিয়া বাজার শাখা থেকে মসজিদের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই ওয়াক্ফ এস্টেটের জমি ও মসজিদ তহবিলের টাকা উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আলী রাজা পাটোয়ারী ওয়াক্ফ এস্টেট মসজিদ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সদস্য জাহাঙ্গির আলম, মো. নুরনবী, শাহজালাল, আফজাল হোসেন সবুজ ও শিপন পাটোয়ারী প্রমুখ।
কাজল কায়েস/এএম/আরআইপি