গোদাগাড়ীতে আত্মঘাতী ৫ জঙ্গির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাবাসপুরের জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত পাঁচ জঙ্গির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে তাদের ময়নাতদন্ত হয়।
বিস্ফোরণে নিহতরা হচ্ছে- গৃহকর্তা সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলী আক্তার (৪৫), তাদের ছেলে আল-আমিন ওরফে আমীর হামজা (২০), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের দেবীপুর চরচাকলা এলাকার আব্দুল হকের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৩)।
ময়নাতদন্ত করা রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. এনামুল হক জানান, নিহতদের সবার শরীরেই কমবেশি বোমার স্প্লিন্টার ও দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, বিস্ফোরণে আল-আমিনের নাড়িভুড়ি বের হয়ে গেছে। শরীরের উপর ও নিচের অংশে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। এছঅড়া পুড়েও গেছে তার দেহ।
‘নিহত সাজ্জাদ হোসেন ও আশরাফুলের শরীরেও বোমার স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। একই অবস্থা বেলী আক্তার ও কারিমা খাতুনেরও। তবে নিহত পুরুষদের চেয়ে তাদের আঘাত তুলনামুলক কম।’
চিকিৎসক ডা. এনামুল হক জানান, ধারণা করা হচ্ছে, একটি বোমার বিস্ফোরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আল-আমিন বোমাটি বহন করছিলেন। তার কাছাকাছি ছিলেন তার সাজ্জাদ হোসেন ও আশরাফুল। একটু দূরে থাকায় ওই দুই নারীর আঘাত কিছুটা কম। এরই মধ্যেই মরদেহে পচন ধরতে শুরু করেছে।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে পাঁচজনেরই মরদেহ রামেক হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়েছে। বেওয়ারিশ হিসেবে শনিবার তাদের মরদেহ দাফন করা হবে।
রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিতে চান না। তাই দাফনের জন্য মরদেহ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। শনিবার নগরীর হেতেমখাঁ কবরস্থানে নিহতদের দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা বলে জানান তিনি।
এর আগে গোদাগাড়ীতে জঙ্গি আস্তানায় চালানো বিশেষ অভিযান ‘সান ডেভিল’ শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর আত্মঘাতীদের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ।
এদিকে ওই অভিযানের সময় জঙ্গি হামলায় গোদাগাড়ী ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান আব্দুল মতিন (৪১) নিহত হন। তিনি ওই উপজেলার মাটিকাটা এলাকার মৃত এহসান আলীর ছেলে।
অভিযান শেষে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি নিশারুল আরিফ সাংবাদিকদের জানান, গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতেই বুধবার মধ্যরাত থেকে ‘জঙ্গি আস্তানা’র ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ভেতরের জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ না করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি চালায়।
‘জঙ্গিদের হামলায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মারা গেলেও নিহত পাঁচ জঙ্গির সবাই সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।’
নিহত জঙ্গিদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আশরাফুল ইসলাম একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার বলে জানা গেছে। সে একজন বড় মাপের জঙ্গি। আত্মগোপন অথবা প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য ওই বাড়িতে তিনি এসেছিল সে। নিহত গৃহকর্তা সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীও জঙ্গি, তারা মাঝারি মাপের।’
নিহত সাজ্জাদের ছেলে আল-আমিন ওরফে হামজা ও মেয়ে কারিমার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা কতদূর তা জানতে অনুসন্ধান চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, সাজ্জাদের আরেক ছেলে সোয়াইবকেও সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে ধরা হচ্ছে। অভিযানের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। অভিযানে সাজ্জাদের আরেক মেয়ে সুমাইয়া আত্মসমর্পন করেন। এর আগে তার দুই ছেলে মেয়েকে উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে এই তিনজন গোদাগাড়ী মডেল থানায়। তাদের নিয়ে অভিযান চলছে।
ডিআইজি নিশারুল আরিফ আরও জানান, বাড়ি থেকে ১১টি বোমা, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বোমাগুলো মাটির নিচে পুঁতে বিস্ফোরিত করা হয়েছে।
‘এছাড়া বাড়ি থেকে পুলিশের পোশাকের কাপড়, সুইসাইডাল ভেস্টের বেল্ট, গানপাউডার, বোমার সুইচ ও কিছু জিহাদী বইসহ নানা ধরনের আলামত জব্দ করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানান তিনি।
এমএমএ