জাহাজের প্লেট দিয়ে সাইকেল-রিকশার ফ্রেম


প্রকাশিত: ০৪:৫৭ এএম, ১৯ মে ২০১৭

রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরীর মমতা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম মেধা ও শ্রম দিয়ে জাহাজের প্লেট থেকে তৈরি করছেন দেশের একমাত্র টেকশই ও মানসম্মত বাইসাইকেল ও রিকশার ফ্রেম (ফোরাগ)।

এ কারখানার মালিকের দাবি দেশে এ ধরনের ফ্রেম তৈরি তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেছেন। পরে পর্যায়ক্রমে অনেকে শুরু করেছেন তবে তার কারখানায় তৈরি ফ্রেমগুলোর মান তুলনামূলক ভালো। তিনি এগুলো জাহাজের লোহার প্লেট কেঁটে কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করে তৈরি করেন।

rajbari

চীন ও ভারত এ ফ্রেম তৈরি করলেও তাদেরগুলো এতো শক্তিশালী নয়, তাছাড়া তারা পাইপ দিয়ে এগুলো তৈরি করেন। রাজধানী ঢাকা থেকে অর্ডার নিয়ে কাঁচামাল সংগ্রহ করে রাজবাড়ীর একটি মাত্র কারখানায় তৈরি হচ্ছে এ ফ্রেম। অর্ডার নেয়ার নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে দোকান মালিকদের মালামাল বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে।

কারখানায় গিয়ে জানা যায়, কারখানার ৩৫ থেকে ৪০ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিকের সমন্ময়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৫০০ শত সাইকেল-রিকশার ফ্রেম তৈরি করছেন। আর সপ্তাহের এ প্রোডাকশন অনুযায়ী মুজরি দেয়া হচ্ছে শ্রমিকদের। এছাড়া কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। কারখানায় রয়েছে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা।

নারী শ্রমিক আশা বেগম বলেন, সংসার চালাতে এখানে কাজ করছি। এ কাজে কষ্ট হলেও করতে হয়। এখানে সবাই তাকে সহযোগিতা করেন এবং বেতন নিয়ে কোনো ঝামেলা নাই।

rajbari

সিনিয়র মিস্ত্রী বাবলু মিয়া বলেন, আমরা এ কারখানায় কাজ করে ভাল আছি। আমরা যে ফ্রেম তৈরি করছি তার মান অনেক ভালো। এ ধরনের মাল কেউ তৈরি করে কিনা তাতে আমার সন্দেহ আছে। রাজবাড়ীতে এ ধরনের কারখানা আর নাই। এ ধরনের কারখানা হলে রাজবাড়ীর বেকার সমস্যা দূর হবে।

মমতা ইঞ্জিনিয়ারিং এর মালিক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি প্রায় ১৯ বছর ধরে এ কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রথমে কারিগর ছিলাম এখন মহাজন। ২০১০ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর জেলায় বেকারত্ব দূর ও নিজে কিছু করার প্রত্যয়ে রাজবাড়ী বিসিক শিল্পনগরীতে একটি কারখানা নিয়ে সাইকেল ও রিকশার ফ্রেম তৈরির কাজ শুরু করি। মালের গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশ আছে।

কিন্তু আমি যে প্রক্রিয়ায় এগুলো তৈরি করি অন্যরা তা নকল করে এর সুনাম নষ্ট করছে। তারপরও আমার কারখানার তৈরি মাল দেখে বোঝা যায় এটি জাহাজের লোহার প্লেট দিয়ে তৈরি। কারখানার পরিসর বৃদ্ধি করতে ঋণের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাংকে গেলে নিজস্ব জমির দলিল না থাকায় লোন পাই নাই। আমার যদি নিজস্ব জমি বা টাকাই থাকতো তাহলে কেন আমি লোন করবো। সেই টাকা দিয়েই তো আমি কারখানার পরিসর বৃদ্ধি করতে পারতাম।

rajbari

তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ীতে সবচেয়ে বড় সমস্যা বিদ্যুৎ। কিন্তু বিদ্যুৎ ছাড়া আমার কারখানায় কোনো কাজ নাই। আকাশ সামান্য কালো বা একটু বাতাস হলেই বিদ্যুৎ থাকে না। রাজবাড়ী একটি জেলা যেখানে একটি সাব-স্টেশন নাই, আমাদের ফরিদপুরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় কখন তারা বিদ্যুৎ দেবে। এইভাবে জেলার উন্নয়ন কী করে সম্ভব।

এ ব্যাপারে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দফতর বা কর্মকর্তাদের দৃষ্টি দিতে বলেন। এছাড়া সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বল্প সুদ বা বিনা শর্তে লোন দিলে তার কারখানায় তৈরি সাইকেল-রিকশার ফ্রেম দেশে বাজারজাত করে বাইরেও রফতানি সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

রুবেলুর রহমান/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।