আম পাকাতে কার্বাইডের পরিবর্তে স্প্রে!


প্রকাশিত: ১১:৪০ এএম, ১৯ মে ২০১৭

সাতক্ষীরায় আম পাকানোর জন্য কার্বাইড বা যে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধে তৎপর ছিল প্রশাসন। আমে যেন কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো না হয়- সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আম ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময় সভাও করা হয়। তবে প্রশাসনের কড়া বার্তাকে টাকার বিনিময়ে সহজ করে নিয়েছেন আম ব্যবসায়ীরা!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আম ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে বলেন, শুরু থেকেই আমে যেন বিষাক্ত কোনো কিছু মেশানো না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনের তরফ থেকে কড়া নজরদারি ছিল। তবে সব আম গাছে পাকানো সম্ভব নয়। এজন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা স্প্রে (ক্ষতিকর রাসায়নিক) ব্যবহার করছি। আমাদের উপজেলায় চারশ আম ব্যবসায়ী রয়েছেন। সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে গত ২৫ বৈশাখ থেকে এক যোগে আম ভাঙা শুরু করেছি। তবে আম পাকানোর জন্য আমরা কার্বাইড (ক্ষতিকর রাসায়নিক) ব্যবহার করছি না।

আলোচনার সময় ঘুষ দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী  বলেন, বুঝে নেন। ঘুষ ছাড়া কী এখন দুনিয়া চলে। এটা শুধু এক উপজেলায় নয়। জেলার সাত উপজেলাতেই হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, আমে ক্ষতিকারণ কার্বাইড মেশানোর ব্যাপারে প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে। তাছাড়া আমে যেন কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো না হয়- সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আম ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময় সভাও করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে কার্বাইড মিশ্রিত আম ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আম ব্যবসায়ীরা কার্বাইডের পরিবর্তে স্প্রে ব্যবহার করছেন- এটি আমার জানা নেই। কী স্প্রে করছেন সেটিও জানি না। ঘুষ নিয়ে আমে স্প্রে ব্যবহারের অনুমতির বিষয়টিও তার জানা নেই বলে তিনি জানান।

কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, এ বছর সাতক্ষীরায় ৫শ মেট্রিক টন আম উৎপন্ন হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিদেশে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হবে। আর কিছু স্থানীয় বাজারে যাবে।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।