ডাক্তার কী ওষুধই দিল যে আমার স্ত্রীর ঘুম আর ভাঙল না


প্রকাশিত: ০৭:৩৩ এএম, ২০ মে ২০১৭

‘সাতক্ষীরার স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন খ্যাত ডা. রাবেয়া পারভীনের ভুল চিকিৎসায় ছেলেটা মায়ের মুখটা পর্যন্ত দেখতে পারল না। জন্মের পরপরই ছেলেটা আমার মা হারা হয়ে গেল। ডা. রাবেয়া পারভীন কী ঘুমের ওষধ দিল সেই ঘুম আর ভাঙল না আমার স্ত্রীর।’ আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা জাগো নিউজের কাছে এভাবেই বর্ণনা করছিলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মৃত. মোমতাজ আলী শেখের ছেলে মাহফুজুর রহমান বাবু।

তিনি কাজল ব্রাদারস লিমিটেড প্রকাশনার এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার দায়িত্বরত আছেন।

বাবু বলেন, পাটকেলঘাটা থানার বাইগুনি গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে মিনা রহমানের সঙ্গে ২০১২ সালে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয় তার। এরপর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হলে গত ১৫ এপ্রিল বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরার ফুড অফিস মোড় এলাকায় রাবেয়া ক্লিনিকে দেখানোর জন্য নিয়ে যায়।

ফি দিয়ে দেখানোর পর একটি স্লিপ দিয়ে পুলিশ সুপার বাসভবনের পেছনে নাহার ডাইগনিস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট দেখানোর কথা বলেন তিনি। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেই তিনি বলেন, আজই সিজার করতে হবে। এরপর বেলা ২টার দিকে স্ত্রী মিনার সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান হয়।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল। রাত ৮টার দিকে স্ত্রীর হঠাৎ খিচুনি শুরু হয়। আমার হাতে আরেকটি স্লিপ দিয়ে ৭-৮টি পরীক্ষার কথা বলা হয়। আমি সেগুলো করানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে যায়। এরপর রাত ৯টার দিকে আমার স্ত্রীকে ঘুমের ওষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। এই ঘুম আর ভাঙেনি আমার স্ত্রীর।

সারারাত আমি মিনার কাছে বসে ছিলাম। ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ দেখি মিনা নিঃশ্বাস নিচ্ছে না। এ সময় আমি নার্সকে ডাকি।

পরে ডা. রাবেয়া পারভীন এসে বলেন, আপনার স্ত্রী মারা গেছেন। ওই রাতেই অ্যাম্বুলেন্সযোগে তড়িঘড়ি করে মরদেহ নিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কাউকে কিছু না জানানোর কথা বলেন ক্লিনিকের লোকজন। মানুসিকভাবে ভেঙে পড়ায় ঘটনাটি কাউকে বলতেও পারিনি। ছেলের নাম রেখেছি মাইমুন রহমান মিফা। ছেলেটি ভালো থাকলেও মায়ের মুখটি সে দেখতে পারলো না।

তবে ভুল চিকিৎসায় মিনা রহমানের মৃত্যু হয়েছে অস্বীকার করে রাবেয়া ক্লিনিকের সত্তাধিকারী ডা. রাবেয়া পারভীন জাগো নিউজকে বলেন, এসব বিষয় কোথা থেকে জানালেন। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে।

তাহলে মিনা রহমানের মৃত্যুর কারণটা কী ছিলো এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দেননি। বলেন, যে পরিবার আপনাকে জানিয়েছে তাদেরকে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ডাক্তারের বিচার দাবি করে মিনা রহমানের স্বামী মাহফুজুর রহমান বাবু বলেন, ভুল চিকিৎসায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আর যেন কোনো সন্তানের বেলায় এমনটা না হয়। ওই ক্লিনিকে অপারেশনের জন্য ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই অক্সিজেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।