হাতিয়ায় ৪ ট্রলার নিখোঁজ, দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ১২ জুন ২০১৭

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নিম্নচাপের প্রভাবে ও পূর্ণিমা জোয়ারের তোড়ে প্রচণ্ড বাতাসে হাতিয়ার উপকূলীয় মেঘনায় চারটি মাছ ধরার ট্রলার নিখোঁজ হয়েছে। সেই সঙ্গে মেঘনা নদীর দমার চরে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া মাছ ধরার নৌকার নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার সকালে নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের পূর্ব বিরবিরি গ্রামের আনাজল হকের ছেলে এনায়েত হোসেনের (৩০) মরদেহ নিঝুমদ্বীপের কাছে মেঘনা নদী থেকে এবং বুড়িরচর ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামের মজিবল হকের ছেলে আবু তাহেরের (৪০) মরদেহ বুড়িরদোনা খালের মুখ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ট্রলারে থাকা অন্য ৫ জেলেকে জাহাজমারা ইউনিয়নের কাদেরিয়া খাল থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম জানিয়েছেন।

Noakhali-Hatiya

প্রচণ্ড বাতাসে হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের পুরাতন ভবনের টিনশেডের ছাদ উড়ে যায়। নিম্নচাপের প্রভাবে ও পূর্ণিমা জোয়ারে হাতিয়ার ৬টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় এসব এলাকা সহজে প্লাবিত হয়। এসব এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং মৃত দুই ব্যক্তির পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিম্নচাপের প্রভাবে ও পূর্ণিমার জোয়ারে হাতিয়া নলচিরা, সুখচর, চরঈশ্বর, তমরদ্দিন, জাহাজমারা ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

এসব এলাকায় পূর্ব থেকে বেড়িবাঁধ না থাকায় সহজে জোয়ারের পানি উঠে যায় এবং বেড়িবাঁধ ভেঙে বেড়ির বাহিরেও ভেতরে বসবাসকারী লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এদিকে নিম্নচাপের কারণে হাতিয়া দ্বীপের সঙ্গে সকল নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

মিজানুর রহমান/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।