লিচু রাজ্য দিনাজপুরে এক লাখ নারীর কর্মসংস্থান


প্রকাশিত: ১২:২১ পিএম, ১৭ মে ২০১৫

কাবিখা, টাবিখা, কর্মসৃজন কিংবা সরকারের বিশেষ কোনো প্রকল্প নয়, দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় লিচুর বাগানে এক লাখ নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে কর্মসংস্থান মাত্র এক মাসের জন্য।

গত ১৩ মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসংস্থান চলবে আগামী মাসের ১১ জুন পর্যন্ত। সংসারের পাশাপাশি নারীরা গড়ে ২৫০ টাকা করে এই এক মাসে সাড়ে ৭ হাজার করে টাকা আয় করবে তারা। সাথে তারা পরিবারের খাবার জন্য পাবে পর্যাপ্ত লিচু।

দিনাজপুরে লিচু মৌসুম শুরু হয়েছে। বাগানিরা তাদের বাগানের লিচু ভাঙতে শুরু করেছে। বাজারে আসতে শুরু করেছে মাদ্রাজি লিচু। এরপর বাজারের একে একে আসবে বেদানা, তারপর আসবে চায়না-১ চায়না-২ ও চায়না-৩ এবং লিচুর রাজা বোম্বাই। সবার শেষে বাজারে আসবে কাঁঠালি লিচু। এছাড়াও লিচুর আরো কয়েকটি জাত রয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার মাটি ও জলবায়ু লিচু উৎপাদনে উপযোগী হওয়ায় দিনাজপুরে লিচু চাষে রীতিমত বিপ্লব ঘটেছে। দিনাজপুরে ৪ হাজার ৫৭ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৮টি বাগানে ৬ লাখ ৪৫টি গাছে লিচু উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ মেট্রিক টন।


লিচু বাগানিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিনাজপুরের বাগানগুলোতে লিচু ভাঙা শুরু হয়েছে। এই বাগানগুলোতে নারীরা লিচু বাছাই ও বাঁধার কাজ করছে। একেকটি বাগানে ১৫ থেকে শুরু করে ৩০ জন পর্যন্ত নারী কাজ করছে। যারা গড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫০ টাকা করে মজুরী পেয়ে থাকেন তাদের কাজ চলবে ১ মাস। তাতে করে নারীরা সংসারের কাজের পাশাপাশি লিচু বাছাই ও গুনে গুনে লিচু বেঁধে দিয়ে এক মাসে কমপক্ষে সাড়ে ৭ হাজার টাকা আয় করবে। যা তাদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।

লিচু বাগানি ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, লুৎফর রহমান ও জাকির হোসেন জানান, লিচুর এই মৌসুমে কমপক্ষে এক লাখ নারীর ১ মাসের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে।

সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকায় লিচু বাগানে কাজ করতে আসা ছাবিয়া, মজিনা, সুমি ও জাহেদা জানায়, এই কাজ তারা প্রতিবছর করে থাকে। সংসারের কাজের পাশাপাশি তারা এই কাজ করে থাকে। তারা সকাল ৯টার সময় আসে আর দুপুর ২ টার দিকে কাজ শেষ করে চলে যায়। বিকেলে লিচু ভাঙলে বাগানিরা খবর পাঠায় বা মোবাইলে জানালে তারা বিকেলে এসে কাজ করে । অন্যথায় বিকেলে তাদের কাজ করতে হয়না। পাশাপাশি যেসব লিচু বটা ছুটে যায়, ফেটে যায় বা কালো দাগ থাকে সেসব লিচু বাগানিরা আমাদের দিয়ে দেয়।  

এ ব্যাপারে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, গত ৩/৪ বছর ধরে এ এলাকার নারীরা লিচুর বাগানে কাজ করছে। নারীদের মজুরী কম হওয়ায় এবং তাদের কাজ পরিচ্ছন্ন হওয়ায় বাগানি ও ব্যবসায়ীরা নারী শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাতে বেশী আগ্রহী।

এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।