দালালের প্রতারণায় নিঃস্ব সিরাজগঞ্জের চার যুবক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ এএম, ০৫ আগস্ট ২০১৭

ভাগ্য অন্বেষণে মধ্যপ্রাচ্য পাড়ি জমাতে গিয়ে দালালের প্রতারণায় নিঃস্ব হয়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশের চার যুবক। প্রতারণার শিকার চার যুবক সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ তাড়াশ থানায় দায়ের করেছেন।

প্রতারণার শিকার এসব যুবকরা হলেন, উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সোনাপাতিল গ্রামের সোবাহান আলীর ছেলে ইকরাম হোসেন (২১), একই ইউনিয়নের সরাপপুর গ্রামের আবু বক্কার সিদ্দিকের ছেলে রবিউল করিম (২৮), তাড়াশ সদর ইউনিয়নের কোহিত গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা (২০) ও বারুহাস ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. মোকলেছুর রহমান।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ওই চার যুবক উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সোনাপাতিল গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে কাতার প্রবাসী শাহ-আলমের মাধ্যমে বিদেশে পাড়ি জমাবেন এমন স্বপ্নে জমিজমা ও বাড়ি বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা তুলে দেন প্রতারক শাহ-আলমের মা রহিমা খাতুনের হাতে।

ভুক্তভোগী মোকলেছুর রহমান ও রবিউল করিম জানান, মাত্র ২৫/৩০ দিনের মধ্যে কাতার পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমে তাদের কাছ থেকে ৪ লাখ করে টাকা নেন আদম ব্যবসায়ী রহিমা খাতুন। কিন্তু টাকা দেয়ার পর মাস পেরিয়ে যাবার পরও কাতারের টিকেট তাদের মেলেনি। এক পর্যায়ে কাতারে যাওয়ার পর তারা জানতে পারে ওয়ার্ক ভিসা দিয়ে তাদের কাতারে পাঠানোর কথা বলে এক সপ্তাহের বিজনেস ভিসা নিয়েই তাদের কাতারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ইকরাম হোসেন জানান, কাতার পৌঁছার মাত্র ৩ দিনের মাথায় তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে ২৫ দিন হাজতবাস করেন। পরে কাতার সরকার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। এর পূর্বে কাতারে অবস্থিত প্রতারক আদম ব্যবসায়ী শাহ আলম তার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়।

মাসুদ রানা জানান, আদম ব্যবসায়ী শাহ আলম ও তার মা রহিমা খাতুন ৩ দফায় কাতার যাওয়ার ভিসা দেন তাকে। প্রথমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কাতার যাওয়ার জন্য আর কোনো উপায় না পেয়ে ফের দেশে আসেন। এক পর্যায়ে কাতার যাওয়ার পরপরই গ্রেফতার হন পুলিশে হাতে। তাকেও ফেরত আসতে হয় বাংলাদেশে। প্রতারক আদম ব্যবসায়ী তাদেরকে বেশি টাকা বেতন দেয়া হবে এবং কাতার বিমানবন্দর, ফাইভস্টার হোটেল ও হাসপাতালে কাজ দেয়া হবে বলে জানায়।

বিষয়টি নিয়ে আদম ব্যবসায়ী কাতার প্রবাসী শাহ আলমের মা রহিমা খাতুন অভিযোগ স্বীকার করে জানান, ওই চার যুবককে বিদেশ পাঠানো হয়। তারা জনপ্রতি চার লক্ষ টাকা করে দেয়। সেখানে গিয়ে জেলহাজত খেটেছে ঠিক কিন্তু জাল ভিসা দেয়া হয়নি। এ নিয়ে গ্রামে শালিস বসেছিল সেখানে টাকা ফেরত দেব বলে জানিয়েছি কিন্তু আমার ছেলে টাকা পাঠাচ্ছে না। এ জন্য টাকা ফেরত দেয়া হয়নি।

সোনাপাতিল গ্রামের মাতব্বর ময়না আলী, ইয়াকুব আলীসহ শতাধিক গ্রামবাসী লিখিত অভিযোগে জানান, ওই গ্রামের আদম ব্যবসায়ী শাহ আলমের বাবা রিয়াজ উদ্দিন তার ছেলে ও স্ত্রীকে দিয়ে আদম ব্যবসা করে এলাকার চার যুবককে জাল ভিসায় বিদেশ পাঠিয়ে প্রতারণা করছেন। এ নিয়ে গ্রামে একাধিক শালিস করা হয়। তারা শালিস না মানায় তাড়াশ থানায় গ্রামের সকলে মিলে একটি অভিযোগ দায়ের করা হলেও অজ্ঞাত কারণে থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর রহমান জানান, ওদের বিদেশে পাঠানোর কথা ছিল। তারা বিদেশ পাঠিয়েছিল। তিনি তাদের আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।