গবাদি পশুতেই স্বপ্নপূরণ চরবাসীর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১০:২২ এএম, ১৬ আগস্ট ২০১৮

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে নবজীবনের সঞ্চার হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। চরের অধিবাসীরা সারাবছর এই ঈদের অপেক্ষায় থাকেন। ঈদকে সামনে রেখে সারাবছর চরবাসীর মধ্যে চলে গবাদি পশু লালন পালনের কর্মচাঞ্চল্য।

এমনিতে চরের অধিবাসীদের আয়ের উৎস খুবই সীমিত। চরে নির্দিষ্ট কয়েকটি ফসল ছাড়া অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। আর তাই চরের অধিবাসীরা অন্যতম আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন গবাদি পশু লালন পালন।

চরের বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তরে সারাবছর চলে এসব পশুপালন। চরবাসীর সারাবছরের রুটি রুজির জোগান দেয় কোরবানির ঈদে বিক্রি করা এসব পশু। তাই চরের অধিকাংশ লোকই এখন পশু পালনকে অন্যতম পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

jagonews

ঈদের সামনে গবাদি পশু বিক্রি লাভজনক হওয়ায় সারা বছর ধরে তারা এ সময়ের প্রতিক্ষায় থাকে। আর এ কারণেই পবিত্র ঈদুল আজহা চরবাসীর জীবনে একটি অনন্য উৎসব হিসেবে পরিগনিত হয়।

চলতি বছরেও ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার পরিবার গবাদি পশু প্রস্তুত করেছে। এ সকল পশুর বেশিরভাগই গরু। এছাড়া ছাগল ও ভেড়াও রয়েছে। তবে মূলত গরু পালনের প্রতি তাদের ঝোঁক বেশি। কারণ গরুতে লাভের পরিমাণও বেশি থাকে।

সরেজমিনে চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ চরজুড়ে চরে বেড়াচ্ছে গরু, ছাগল ও ভেড়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চরে অবমুক্ত থাকে বলে এসকল গবাদি পশু দেখতে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এ সকল গবাদি পশু লালন পালনে মালিকদের খরচ এক প্রকার নেই বললেই চলে।

চর হরিরামপুর ইউনিয়নের ভাটি শালেপুর গ্রামের বাসিন্দা সবুর শেখ বলেন, চরে তেমন কোনো ফসল হয় না। তাই পশু পালন করে থাকি। সারা বছর আমরা এগুলো পালন করে কোরবানির ঈদে বিক্রি করি। গবাদি পশু বিক্রি করে যা লাভ হয় তা দিয়ে সারা বছর আমাদের সংসার চলে।

গাজিরটেক ইউনিয়নের মন্ডলডাঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা সাত্তার মোল্লা বলেন, এ বছর আমার ৫টি গরু রয়েছে। সারা বছর লালন পালন করেছি, আর কয়েকদিনের মধ্যে হাটে নেব।

তিনি বলেন, সারা বছর চরের ঘাস খাইয়ে পশুগুলোকে বড় করেছি। তাই লালন পালনে বেশি খরচ হয়নি। আশাকরি এবার ঈদে ভালো দাম পাব। কিন্তু বাইরে থেকে ট্রলারে এসে রাতে ডাকাতরা অনেক সময় গরুগুলো নিয়ে যায়। এ কারণে কিছুটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। তবে এ বছর এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

jagonews

চরহরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমির হোসেন খান বলেন, চরের মানুষ খুব অল্প খরচে গবাদি পশু পালন করতে পারে। তাই কম খরচে বেশি লাভ পাওয়ায় চরের মানুষ এ পেশাকেই বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে আগে নদীর পাড় এলাকায় গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। তবে বর্তমানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া গবাদি পশুগুলোকে নিরাপদে রাখতে আমি নিজেও রাতে চরাঞ্চলে পাহারার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া পুলিশও রাতে টহলের ব্যবস্থা করেছে।

চরভদ্রাসন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাম প্রসাদ ভক্ত জানান, গ্রামবাসী চরের গবাদি পশুগুলোকে যাতে নির্বিঘ্নে হাটে নিতে পারে সেজন্য পুলিশি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া রাতেও চরাঞ্চলে টহল ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

এফএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :